ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো বুধবার জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাকে নিশ্চিত করেছেন যে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণকে তিনি স্বাগত জানান। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে বসতে যাচ্ছে ফুটবলের এই আসর।
গত সপ্তাহে আটলান্টায় বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর প্রতিনিধি নিয়ে ফিফার একটি পরিকল্পনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে একমাত্র ইরানই অনুপস্থিত ছিল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের উত্তেজনার মধ্যে এই গ্রীষ্মে আমেরিকার মাটিতে ইরানি দল খেলতে আসবে কি না, তা নিয়ে যে সংশয় তৈরি হয়েছিল, ইরানের অনুপস্থিতি সেই প্রশ্নকে আরও জোরালো করেছিল।
অবশ্য এর আগে ‘পলিটিকো’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেছিলেন, ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে তিনি মোটেও চিন্তিত নন; কারণ তারা একটি ‘শোচনীয়ভাবে পরাজিত দেশ’।
নিজের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে ফিফা প্রধান ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমরা ইরানের বর্তমান পরিস্থিতি এবং ২০২৬ বিশ্বকাপে দলটির অংশগ্রহণের যোগ্যতা অর্জন নিয়ে কথা বলেছি। আলোচনার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পুনরায় জানিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসা ইরানি দলকে অবশ্যই স্বাগত জানানো হবে।’
ইনফান্তিনো আরও বলেন, ‘মানুষকে ঐক্যবদ্ধ করতে এখন বিশ্বকাপের মতো আয়োজনের প্রয়োজনীয়তা আগের চেয়ে অনেক বেশি। আমি মার্কিন প্রেসিডেন্টকে তার সমর্থনের জন্য ধন্যবাদ জানাই। এটি আবারও প্রমাণ করে যে ফুটবল সারা বিশ্বকে এক সুতোয় গাঁথে।’
গত বছর এশীয় অঞ্চলের বাছাইপর্বে ‘এ’ গ্রুপে শীর্ষস্থান দখল করে টানা চতুর্থবারের মতো বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে ইরান। তবে ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদি তাজ মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর সাম্প্রতিক আক্রমণের তীব্রতা বিশ্বকাপের পরিবেশের জন্য সুখকর কোনো ইঙ্গিত নয়।
আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত অনুষ্ঠেয় এই বিশ্বকাপে ইরান ‘জি’ গ্রুপে বেলজিয়াম, মিশর ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে খেলবে। তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস ও সিয়াটলে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। যদি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দলই নিজ নিজ গ্রুপে রানার্সআপ হয়, তবে আগামী ৩ জুলাই ডালাসের নকআউট ম্যাচে দেশ দুটি একে অপরের মুখোমুখি হতে পারে।
