চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ধরতে মধ্যরাতে ঢাকঢোল পিটিয়ে পুলিশের ‘এস ড্রাইভ’ তীব্র সমালোচনার মুখে

চট্টগ্রামে সন্ত্রাসী ধরতে মধ্যরাতে ঢাকঢোল পিটিয়ে পুলিশের ‘এস ড্রাইভ’ তীব্র সমালোচনার মুখে
শেয়ার করুন

❐ চট্টগ্রাম ব্যুরো


পুলিশের আগাম ঘোষণা দিয়ে বিশেষ অভিযান শুরু করায় সমালোচনার মুখে পড়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)।

পুলিশের পাহারায় থেকেও চট্টগ্রামে এক ব্যবসায়ীর বাসায় সশস্ত্র হামলার ঘটনার পর ১লা মার্চ, রোববার দিবাগত রাত ১২টার দিকে নগরজুড়ে একযোগে অভিযান শুরু করা হলেও, অভিযান শুরুর আগেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তা প্রকাশ্যে ঘোষণা করাকে ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে আয়োজিত জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ বা সংক্ষেপে ‘এস ড্রাইভ’ নামের এই অভিযানের ঘোষণা দেন সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

তিনি জানান, মেট্রোপলিটন এলাকার সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে একযোগে অভিযান পরিচালিত হবে।

পুলিশি পাহারার মধ্যেই চাঁদার দাবিতে আওয়ামী লীগ নেতা-ব্যবসায়ীর বাড়িতে দ্বিতীয় দফা গুলিবর্ষণ

চট্টগ্রামে চাঁদা না পেয়ে দিনেদুপুরে ব্যবসায়ীর বাড়িতে শিবির সাজ্জাদের অনুসারীদের গুলি

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো একটি স্থানে হানা দিলে যাতে অন্য অপরাধীরা সরে যেতে না পারে, সেজন্য একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানোই ‘এস ড্রাইভ’-এর উদ্দেশ্য। ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব কর্মকর্তা এতে অংশ নেবেন বলেও জানানো হয়।

বিএনপি নেতা মীর হেলালের সাথে শীর্ষ সন্ত্রাসী ছোট সাজ্জাদ

তবে অভিযানের আগাম ঘোষণা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা শুরু হয়। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, অভিযান শুরুর আগে সংবাদ সম্মেলন করে তা জানিয়ে দিলে মূল অপরাধীরা পালানোর সুযোগ পেতে পারে।

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড > ক্ষমতার দ্বন্দ্বে মরিয়া বিএনপি-জামায়াতের শীর্ষ সন্ত্রাসীরা: বাড়ছে অত্যাধুনিক অস্ত্রের মজুদ: পর্ব-১

চট্টগ্রামের আন্ডারওয়ার্ল্ড > সক্রিয় দুই প্রজন্মের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের তালিকা এবং ইতিহাস: শেষ পর্ব

একযোগে অভিযানের লক্ষ্য যেখানে অপরাধীদের গতিবিধি সীমিত করা, সেখানে পূর্বঘোষণা কতটা কৌশলগতভাবে কার্যকর— তা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

পুলিশ জানায়, প্রবিধানের ৩৭৮(ঘ) ধারায় ‘সিমুলটানিয়াসলি ড্রাইভ’ বলতে যুগপৎ অভিযানকে বোঝায়। রেজিস্টারে লিপিবদ্ধ পলাতকদের বিষয়ে পর্যায়ক্রমিক অনুসন্ধান, তারিখ উল্লেখ এবং দুইজন সাক্ষীর নাম সংরক্ষণের বিধান রয়েছে। যেসব স্থানে অপরাধীরা অবস্থান করছে বলে ধারণা করা হয়, সেখানে অনিয়মিত বিরতিতে একযোগে অভিযান পরিচালনাই এ ব্যবস্থার মূল বৈশিষ্ট্য।

অস্ত্রধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান

এই অভিযানের পটভূমিতে রয়েছে শনিবার সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনা। ওই ঘটনার পর নগরবাসীর মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে স্বীকার করেন ওয়াহিদুল হক চৌধুরী।

পুলিশের দাবি পলাতক, বিএনপির প্রচারণার মঞ্চে সক্রিয় ৮ খুনের আসামি শীর্ষ সন্ত্রাসী রায়হান

চট্টগ্রামে বাড়ি নির্মাণ, ব্যবসা বা জমি বেচাকেনায় দিতে হয় কোটি টাকা, পৌঁছে যায় অস্ত্রধারীরা

তিনি বলেন, সেই আশঙ্কা দূর করতেই বিশেষ এই অভিযান।

পুলিশের দাবি, হামলায় জড়িতদের ইতিমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য অবস্থানস্থলে অভিযান চলছে। তাদের চট্টগ্রাম শহরের বাইরে পাহাড়ি এলাকায় অবস্থানের তথ্য রয়েছে বলেও জানানো হয়। নগরের প্রবেশমুখগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।

চাঁদার দাবিতে এভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্র হাতে দাপিয়ে বেড়ায় চট্টগ্রামের সন্ত্রাসীরা

পুলিশের ধারণা, ব্যবহৃত অস্ত্র বাইরে থেকে আনা হয়নি; শহরের ভেতরেই কোথাও লুকিয়ে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য কয়েকটি স্পট চিহ্নিত করে একযোগে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

তবে আসামিদের পরিচয় বা অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে বিস্তারিত জানাতে রাজি হয়নি পুলিশ। তদন্তের স্বার্থে এখনই নাম প্রকাশ করা যাচ্ছে না বলে জানানো হয়। অস্ত্র থানার লুট হওয়া নাকি পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা— সে বিষয়ে নিশ্চিত নয় পুলিশ; তবে পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর কাছ থেকে কেনা হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসীদের কয়েকজন

নগর পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, ১০টি দলে ভাগ হয়ে নগরের ১০টি এলাকায় অভিযান চলছে। সিএমপি জানিয়েছে, অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ‘এস ড্রাইভ’ অব্যাহত থাকবে। পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা দলও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়সাল আহমেদ এবং ডিসি (দক্ষিণ) হোসাইন মোহাম্মদ কবির ভূঁইয়াও উপস্থিত ছিলেন।

Visited 19 times, 1 visit(s) today