যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান তৃতীয় দিনে প্রবেশ করেছে। অভিযানের প্রধান লক্ষ্য ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নির্মূল, ব্যালিস্টিক মিসাইল সক্ষমতা ধ্বংস এবং শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন। এ পর্যন্ত ২,০০০-এর বেশি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হয়েছে বলে যৌথ বাহিনীর দাবি।
পরমাণু স্থাপনায় হামলার বিস্তারিত তথ্য
- নাতাঞ্জ (Natanz): ইরানের আইএইএ-তে প্রতিনিধি রেজা নাজাফি দাবি করেছেন, রবিবার (১ মার্চ) যৌথ হামলায় নাতাঞ্জের পরমাণু সমৃদ্ধকরণ স্থাপনা আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছে। ইরান এটিকে “শান্তিপূর্ণ” কর্মসূচির ওপর আক্রমণ বলে অভিহিত করেছে।
- ফোর্দো (Fordow): যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, এই গভীর ভূগর্ভস্থ স্থাপনায় সম্পূর্ণ বোমা পেলোড ফেলা হয়েছে। তবে পূর্ণ ধ্বংসের দাবি বিতর্কিত।
- ইসফাহান (Isfahan): একাধিক রিপোর্টে ইসফাহানের পরমাণু ও মিসাইল-সংক্রান্ত স্থাপনায় আঘাতের উল্লেখ রয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী “পরমাণু অবকাঠামোর পদ্ধতিগত ধ্বংস” শুরু করেছে বলে ঘোষণা দিয়েছে।
- আইএইএ-এর অবস্থান: প্রধান রাফায়েল গ্রসি জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত কোনো পরমাণু স্থাপনায় (বুশেহর, তেহরান রিসার্চ রিয়্যাক্টরসহ) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ইরানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে কিন্তু কোনো সাড়া মিলছে না।
- অন্যান্য লক্ষ্য: তেহরানে অ্যাটমিক এনার্জি অর্গানাইজেশনের সদর দপ্তরের কাছে আঘাত, পারচিন সামরিক স্থাপনা এবং মিসাইল বেসসমূহ (যেমন: এসফাহান নর্থ, আমান্দ, ইমাম হুসেইন)।
হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হয়েছেন (ইরানি রাষ্ট্রীয় মিডিয়া নিশ্চিত করেছে), সাথে আইআরজিসি কমান্ডার, প্রতিরক্ষামন্ত্রীসহ অন্তত ৪৮ জন উচ্চপদস্থ নেতা। ইরানের রেড ক্রিসেন্টের তথ্যমতে, ৫৫৫ জনের বেশি নিহত এবং ১৩১টি শহর ক্ষতিগ্রস্ত।
সর্বশেষ পরিস্থিতি (২ মার্চ দুপুর পর্যন্ত)
- ইরানের পাল্টা হামলা: ইরান ইসরায়েল, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য ঘাঁটি (কুয়েত, বাহরাইন, কাতার, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত) এবং অন্যান্য লক্ষ্যে মিসাইল ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। দুবাই, আবুধাবি, দোহা, মানামায় বিস্ফোরণের খবর। তেল আভিভ ও বেত শেমেশে আঘাত।
- লেবানন ফ্রন্ট: হিজবুল্লাহ খামেনির মৃত্যুর প্রতিশোধে ইসরায়েলে রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করেছে। ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
- যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষয়ক্ষতি: ৩ জন মার্কিন সেনা নিহত, ৫ জন গুরুতর আহত। কুয়েতে কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান ক্র্যাশ করেছে (ক্রু নিরাপদ)।
- অর্থনৈতিক প্রভাব: তেলের দাম ৮% বেড়ে ৭৮-৭৯ ডলারে পৌঁছেছে। বিমান চলাচল বিঘ্নিত, স্ট্রেইট অব হরমুজে উত্তেজনা।
- আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, অভিযান “সব উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়া পর্যন্ত” চলবে (৪ সপ্তাহ পর্যন্ত সম্ভাব্য)। ইরানের নতুন নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি লারিজানি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনা হবে না। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে রাশিয়া জরুরি অধিবেশন ডেকেছে।
বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলছেন, এই যুদ্ধ দ্রুত আঞ্চলিক যুদ্ধে রূপ নিতে পারে। হিজবুল্লাহ, হুথি ও অন্যান্য প্রক্সি গ্রুপ জড়িয়ে পড়লে পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হবে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় পরিবর্তন হচ্ছে।
