জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়েই মাশরাফি মর্তুজা ও সাকিব আল হাসানকে ফেরানোর কথা বললেন। আওয়ামী লীগ সরকারের সাংসদ থাকায় একাধিক মামলায় আসামী থাকা মাশরাফি আছেন আত্মগোপনে, সাকিব আল হাসান বিদেশে।
২০২৪ সালে অগাস্টে আওয়ামী লীগের পতনের পর সাকিব-মাশরাফির বিরুদ্ধে মিথ্যা হত্যা মামলা দেয় সদ্য বিগত ইউনুস সরকার। বিএনপি সরকার ক্ষমতা নেওয়ার পর মন্ত্রী হয়ে এই মামলাগুলো আইন সমাধানের কথা বললেন আমিনুল। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন যে, এই দুজন আবারো বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরতে পারবেন। সেটা যেকোনো ভূমিকায় হতে পারে।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর মঙ্গলবার বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন আমিনুল। তিনি জানান, এই বিষয়টি সরকারি পর্যায়ে সমাধান করা হবে।
মঙ্গলবার মিরপুরে নিজ বাসভবনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে আমিনুল বলেন, ‘সাকিব ও মাশরাফির বিষয়টি সরকার দেখবে। আমরা এই ইস্যুতে নমনীয় থাকব। তাঁদের বিরুদ্ধে যে মামলাগুলো রয়েছে সেগুলো সরকার পরিচালনা করবে। আমরা চাই সাকিব ফিরে আসুক।’
তিনি আরও যোগ করেন, ‘যেহেতু তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, আমরা আশা করি সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তি হবে যাতে তাঁরা ফিরতে পারেন। আমরা সাকিব ও মাশরাফিকে বাংলাদেশের ক্রিকেটে ফিরে পেতে চাই।’
সাকিব ও মাশরাফি উভয়ই ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের সংসদ সদস্য ছিলেন। এই দুই ক্রিকেটারের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা দায়ের করা হয়েছে।
সাকিব প্রায় দেড় বছর ধরে জাতীয় দলের বাইরে রয়েছেন এবং বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগই তাঁর ক্রিকেটের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। জাতীয় দলের পোশাকে তাঁর শেষ উপস্থিতি ছিল ২০২৪ সালের শেষের দিকে কানপুরে ভারতের বিপক্ষে একটি টেস্ট ম্যাচে।
অন্যদিকে, ৪২ বছর বয়সী মাশরাফি জুলাই সন্ত্রাসের শিকার হয়েছিলেন। নড়াইতে তার বাড়ি পুড়িয়ে দিয়েছিলো জুলাইর আন্দোলনকারী সন্ত্রাসী বাহিনী।
এর আগে ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিয়মিত ছিলেন এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে অংশ নিয়েছিলেন।
