অলাভজনক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্বত্ব পেয়েই বুলবুলের সাফল্যের প্রচার!

অলাভজনক অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্বত্ব পেয়েই বুলবুলের সাফল্যের প্রচার!
শেয়ার করুন

অন্তর্বর্তী সরকারের রাজনীতির শিকার হয়ে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে পারেনি বাংলাদেশ। দর্শক হিসেবে দেখতে হচ্ছে বিশ্ব আসর। বিশ্বকাপ না খেলায় মিলছে না প্রাইজমানি, খেলোয়াড়রা বঞ্চিত হচ্ছে বড় মঞ্চে ঝলক দেখানো থেকে। নিজেদের এমন বিপর্যয়ের মাঝে পাকিস্তানকে ভারতের সঙ্গে ক্রিকেটের স্বার্থে খেলার আহ্বান জানিয়ে আলোচনায় এসেছেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল। আইসিসির কাছ থেকে ২০২৮ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের স্বত্ব পাওয়াকে সাফল্য হিসেবে প্রচার করছেন তিনি; যদিও এই টুর্নামেন্টটি সম্পূর্ণ অলাভজনক।

পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতবিরোধী রাজনীতি করে বিশ্বকাপ খেলা থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড। বাংলাদেশ ভারতে গিয়ে খেলতে রাজি না হওয়ায় স্কটল্যান্ডকে সুযোগ দেয় আইসিসি। শুরুতে এর প্রতিবাদে বিশ্বকাপ বর্জনের গুঞ্জন রটালেও পাকিস্তান পরে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বর্জনের ঘোষণা দেয়।

দিন দশেকের নাটকের পর আবার নিজেদের সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে ভারতের সঙ্গে খেলার ঘোষণা দেয় পাকিস্তান। তার আগে বিসিবি সভাপতি বুলবুল পাকিস্তানকে ভারতের বিপক্ষে খেলার অনুরোধ করেন। যেন সব ছকে বাঁধা; বুলবুলের অনুরোধের পর পাকিস্তানও রাজি হয়ে যায়।

লাহোরে আইসিসি সভায় পিসিবি সভাপতি মহসিন নাকভির সঙ্গে আইসিসির প্রতিনিধির সভায় উপস্থিত ছিলেন বুলবুলও। সেখানে তার আসল প্রাপ্তি মূলত নিষেধাজ্ঞা বা জরিমানায় না পড়া। বিশ্বকাপ না খেলায় আইসিসি চাইলে বিসিবিকে জরিমানা ও নিষেধাজ্ঞা দিতে পারত। সমর্থকদের কথা ভেবে তারা সেটা করেনি।

এর সঙ্গে আইসিসি জানায়, ২০২৮ থেকে ২০৩০ সালের মাঝে বাংলাদেশকে একটা ইভেন্ট হোস্ট করতে দেওয়া হবে। ২০২১ সালে আইসিসি বড় সব আসর দশ বছরের জন্য হোস্টিং দিয়ে দিয়েছিল। তখন বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন ২০৩১ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ভারতের সঙ্গে যৌথ আয়োজক হিসেবে বাংলাদেশকে এনেছিলেন। আইসিসি জানায় সেই সিদ্ধান্ত বহাল আছে।

নতুন যে ইভেন্ট আয়োজনের স্বত্ব বিসিবি পাচ্ছে, সেটা মূলত অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ। এই আসর মূলত অলাভজনক, তাই ভারত ও ইংল্যান্ড এটি কখনোই আয়োজন করেনি। এবার এই টুর্নামেন্টের আয়োজক ছিল জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মতো দেশ। কাজেই এটা চাইলেই পাওয়ার মতো এক আসর। বাণিজ্যিকভাবে ছোটদের বিশ্বকাপ আয়োজনে লাভের চেয়ে ক্ষতি বেশি। সেটাকেই কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে প্রচার করছেন বুলবুল; নিজেকে দাবি করছেন ‘গোল্ড মেডেলিস্ট’ হিসেবে।

অথচ বুলবুলের চূড়ান্ত ব্যর্থতায় বাংলাদেশ বিশ্বকাপে খেলতে পারেনি। নিজেদের বিশ্বকাপ জলাঞ্জলি দিয়ে বিসিবির এই সভাপতি ভারত ও পাকিস্তানের ম্যাচ হওয়া নিয়ে অনুরোধের নাটক করেছেন। তাকে পেছন থেকে সমর্থন জুগিয়ে দেশের ক্রিকেটের বড় ক্ষতির কারণ হয়েছেন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুল।

Visited 9 times, 1 visit(s) today