নিজস্ব প্রতিবেদক
লন্ডন: স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ারের পদত্যাগের আহ্বানের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই দলীয় সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে দেওয়া এক বৈঠকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ও লেবার নেতা কিয়ার স্টারমার স্পষ্টভাবে জানান, তিনি তাঁর দায়িত্ব ও জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট থেকে সরে দাঁড়াতে প্রস্তুত নন। তিনি বলেন, রাজনৈতিক জীবনে যেসব লড়াইয়ের মুখোমুখি হয়েছেন, সবগুলোতেই তিনি জয়ী হয়েছেন এবং এবারও ব্যতিক্রম হবে না।
ওয়েস্টমিনস্টারে অনুষ্ঠিত প্রায় এক ঘণ্টার বেশি সময়ব্যাপী এই বৈঠকে ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। এতটাই ভিড় ছিল যে কয়েকজন মন্ত্রী বৈঠককক্ষে ঢুকতে পারেননি বলে জানা গেছে। বৈঠকের ভেতরে একাধিকবার জোরালো করতালির শব্দ শোনা যায়, যা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দেয়।
এর আগে স্কটিশ লেবার নেতা আনাস সারওয়ার সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ডাউনিং স্ট্রিটের বর্তমান পরিস্থিতি “গ্রহণযোগ্য নয়” এবং এটি সরকার পরিচালনার কাজে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করছে। তিনি নেতৃত্বে পরিবর্তনের আহ্বান জানান।
স্টারমারের নেতৃত্ব ঘিরে এই চাপের মধ্যে আরও জটিলতা তৈরি হয় যখন তাঁর প্রধান স্টাফ মর্গান ম্যাকসুইনি দায়িত্ব ছাড়েন এবং পরদিন যোগাযোগ পরিচালক টিম অ্যালান পদত্যাগ করেন। ম্যাকসুইনি যুক্তরাষ্ট্রে লর্ড ম্যান্ডেলসনকে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগের পরামর্শ দেওয়ার দায় নিজের কাঁধে নিয়েছিলেন।
তবে দিন গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে স্টারমারের পক্ষে মন্ত্রিসভার একাধিক সদস্য প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। সাবেক উপনেতা অ্যাঞ্জেলা রেইনার, চ্যান্সেলর র্যাচেল রিভস এবং সংস্কৃতি সচিব লিসা ন্যান্ডিসহ অনেকেই বলেন, দল প্রধানমন্ত্রীর পাশেই আছে।
অন্যদিকে বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টির নেতা কেমি ব্যাডেনক দাবি করেন, স্টারমার তাঁর দল ও দেশ—দুটোর ওপরই নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছেন।
বৈঠকে দেওয়া বক্তব্যে স্টারমার বলেন, তিনি দেশকে পরিবর্তনের সুযোগ পেতে কঠোর সংগ্রাম করেছেন এবং এই মুহূর্তে দায়িত্ব ছেড়ে দিলে তা দেশকে নতুন অস্থিরতার দিকে ঠেলে দেবে। তিনি দলীয় সহকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্কটিশ লেবার নেতার পদত্যাগ আহ্বান তাৎক্ষণিকভাবে বড় আলোড়ন তুললেও দিনের শেষে লেবার পার্টির ভেতরে স্টারমারের অবস্থান আগের তুলনায় কিছুটা শক্তিশালী হয়েছে।
