বিনোদন প্রতিবেদক
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ মুহূর্তে প্রার্থীদের পক্ষে প্রচারণায় শোবিজের কিছু কিছু তারকাও দেখা যাচ্ছে। বিশেষ করে বিএনপি’র নির্বাচনি প্রচারণায় বিভিন্ন আসনে দেখা যাচ্ছে কণ্ঠশিল্পী মনির খান, রবি চৌধুরী, অভিনেত্রী রিনা খান, নায়িকা শিমলাদের।
নির্বাচনি প্রচারে নেমে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনার মুখে পড়েছেন দুই তারকা সংগীতশিল্পী রবি চৌধুরী ও অভিনেত্রী শিমলা।
বিশেষ করে, নায়িকা শিমলাকে ধানের শীষের নির্বাচনি প্রচারণায় দেখে অবাক হয়েছেন অনেকেই।
কারণ ২০২৪-এর জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনের আগে আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী হতে ঝিনাইদহ-১ আসনের জন্য মনোনয়ন ফরম কিনেছিলেন নায়িকা শিমলা।
‘ম্যাডাম ফুলি’-খ্যাত এই নায়িকা নিজে গিয়ে সেবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ের আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে নৌকার মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন পাননি তিনি।
মনোনয়ন ফরম কেনার পর শিমলা একাধিক গণমাধ্যমে নিজেকে আওয়ামী লীগ পরিবারের সন্তান উল্লেখ করে বলেছিলেন, ‘যদিও জানি কথাটা হাস্যকর হবে, কথাটা সত্যি। তারপরেও বলি, স্বপ্নে তো আমরা অনেক কিছুই দেখি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে আমার অনেকবারই দেখা হয়েছে। কিছু দিন আগের কথা, আমি স্বপ্নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে দেখেছি, তিনি আমাকে কিছু একটা দিচ্ছেন। আমার মনে হয় সেই স্বপ্নটাই বাস্তব হতে যাচ্ছে, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী আমাকে মনোনয়ন দেবেন।’
ভোট চাওয়ার ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেন শিল্পীরা। এসময় শিমলা বলেন, ‘আমি শিমলা, ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি। এখানে অনেকের সঙ্গে কথা বলেছি, তারাও ধানের শীষে ভোট দেওয়ার সম্মতি জানিয়েছেন। আর আমাকে নিয়ে নয় ছয় কথা বলবেন না প্লিজ। আমার অনেক কথা বলার আছে, সেটা ১২ তারিখের পর বলবো।’
হঠাৎ কেন শিমলা ভোল পাল্টালেন জানতে তার সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অভিনেত্রী সিমলা অনেক দিন ধরেই অন্তরালে। চলচ্চিত্র অঙ্গনে তার বিচরণ একেবারেই কম, তবে ২০২৩ সালের নভেম্বর নাগাদ আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন ফরম নেওয়ার জন্য তিনি সামনে এসেছিলেন। মাঝে আবার বিরতি নিয়ে এখন আবার প্রতীক বদল করে মাঠে নেমেছেন এই নায়িকা।
এছাড়া সংগীতশিল্পী মমতাজের প্রচারে দেখা গেছে রবি চৌধুরীকে।
রবিবার রাত থেকে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিভিন্ন লোকজন ও শেখ হাসিনার সঙ্গের স্থিরচিত্র পোস্ট করে রবি চৌধুরীর সমালোচনা করছেন নেটিজেনরা। এরমধ্যে এই সংগীতশিল্পীও তার সমালোচনা নিয়ে মুখ খুলেছেন।
রবি চৌধুরী বলেন, ”আমি টাকার বিনিময়ে মমতাজের প্রচারণা করেছি। আমি দালাল না। যে আমাকে টাকা দেবে তার জন্য গান গাইব। প্রেসিডেন্ট এরশাদ থেকে শুরু করে মাওলানা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীও আমাকে পছন্দ করতেন। ২০০৩ সালে আমি বেগম খালেদা জিয়ার সফর সঙ্গী হয়ে ছিলাম। সেখানে তারেক রহমান সাহেবও ছিলেন।”
এদিকে সোমবার দুপুরে ঢাকা-১৭ আসনে কণ্ঠশিল্পী মনির খান, রবি চৌধুরী, অভিনেত্রী রীনা খান ও অভিনেতা শাহেদ শরীফের সঙ্গে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট চাইতে দেখা যায় শিমলাকে।
প্রচারণার ফাঁকে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শিমলা বলেন, ”আমি শিমলা, ধানের শীষের জন্য ভোট চাইছি। তবে আমাকে নিয়ে নয়-ছয় কথা বলবেন না। আমার অনেক কথা বলার আছে, সেটা ১২ তারিখের পর বলব।”
তিনি বললেন, ”আমি একজন শিল্পী, এটাই আমার সবচেয়ে বড় পরিচয়। আর আমি যে কারও জন্য ভোট চাইতে পারি। এমনকি যেকোনো দলের হয়ে নির্বাচনে লড়ার আগ্রহও প্রকাশ করতে পারি— এটাতে মোটেও কোনো সমস্যা দেখছি না। একটা কথা আমি পরিষ্কার করে বলতে চাই, আমি কোনো দলের কর্মী নই। শিল্পী হিসেবে আমি সবার। যাকে মন চাইবে, আমি তার জন্য ভোট চাইব। ম্যাডাম খালেদা জিয়াকে আমার ভালো লাগে, তাই তার দলের জন্য এবারের নির্বাচনে ভোট চাইতে নেমেছি। এখানে দালালি বা তৈল মর্দন করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
