জামায়াতপন্থি সংস্থা পাশার ১০ হাজার পর্যবেক্ষকের স্থগিতাদেশ কেবল মুখে মুখেই, ইসির তালিকায় বহাল

জামায়াতপন্থি সংস্থা পাশার ১০ হাজার পর্যবেক্ষকের স্থগিতাদেশ কেবল মুখে মুখেই, ইসির তালিকায় বহাল
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জামায়াতপন্থি হিসেবে আলোচিত পিপলস অ্যাসোসিয়েশন ফর সোশ্যাল অ্যাডভান্সমেন্ট (পাশা) নামের একটি সংস্থাকে পর্যবেক্ষক নিয়োগের সিদ্ধান্ত স্থগিতের কথা সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হলেও বাস্তবে আগামী জাতীয় নির্বাচনে পর্যবেক্ষকের মোট সংখ্যায় কোনো পরিবর্তন আসেনি। বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অবস্থান স্পষ্ট না হওয়ায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

ভোটের চার দিন আগে রবিবার নির্বাচন কমিশন থেকে পর্যবেক্ষক কার্ড ইস্যু সংক্রান্ত যে বিশেষ নির্দেশনা জারি করা হয়েছে, তাতে মোট ৫৫ হাজার ৪৫৪ জন পর্যবেক্ষক থাকার কথাই উল্লেখ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশীয় নিবন্ধিত ৮১টি সংস্থার পর্যবেক্ষক এবং প্রায় ৫০০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এর আগে ইসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, পাশা নামের সংস্থাটিকে একাই ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এই সংস্থার কার্যক্রম ও সক্ষমতা নিয়ে গণমাধ্যমে প্রশ্ন ওঠার পর সরকারের পক্ষ থেকে ওই সিদ্ধান্ত স্থগিতের ঘোষণা আসে।

স্বাভাবিকভাবে পাশার পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা যদি কার্যকরভাবে স্থগিত হতো, তাহলে মোট পর্যবেক্ষকের সংখ্যা কমে ৪৫ হাজার ৪৫৪ জন হওয়ার কথা। কিন্তু ইসির সর্বশেষ নির্দেশনায় সেই সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

কেন পর্যবেক্ষকের সংখ্যা আগের মতোই থাকছে—এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি। একাধিক কমিশনারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

পরে এ বিষয়ে জানতে চাইলে নির্বাচন কমিশনের জনসংযোগ পরিচালক মো. রুহুল আমিন মল্লিক বলেন, “পাশার সদস্যদের নাম তালিকায় থাকলেও বর্তমানে তাদের কার্ড ইস্যু করার প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখা হয়েছে।”

যদিও নির্বাচন কমিশন সুত্র নিশ্চিত করেছে, পাশা’কে তাদের কার্ড মৌখিকভাবে ফেরত দিতে বললেও ইসি কমিশনার’দের মাধ্যমে সেটা ‘ম্যানেজ’ করে নিয়েছে। তারা সেই কার্ডেই নির্বাচন পরিদর্শন করবে।

এর আগে শনিবার দৈনিক প্রথম আলো পাশা নামের সংস্থাটিকে ১০ হাজার পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে জানানো হয়, হবিগঞ্জে একটি বাড়িতে সংস্থাটির কার্যালয়, যেখানে একজন মাত্র কর্মী কাজ করেন। সেই কার্যালয়টি পাশার নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ হুমায়ুন কবীরের নিজ বাসভবন, এবং তিনিই সংস্থাটির একমাত্র কর্মী।

এই সংস্থাকে বিপুলসংখ্যক পর্যবেক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়ার খবর প্রকাশের পর ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। এরপর প্রধান উপদেষ্টার উপ–প্রেস সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার জানান, পাশাকে ১০ হাজারের বেশি পর্যবেক্ষক কার্ড দেওয়ার সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে।

এর পরদিনই নির্বাচন কমিশন পর্যবেক্ষক পরিচয়পত্র ও গাড়ির স্টিকার ইস্যু সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। নির্দেশনায় বলা হয়, আবেদনের সঙ্গে ইলেকশন অবজারভার–২ ও ইলেকশন অবজারভার–৩ ফরম যথাযথভাবে পূরণ ও সংযুক্ত আছে কি না, তা যাচাই করতে হবে। পর্যবেক্ষকদের জন্মতারিখ অবশ্যই ১১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫ বা তার আগে হতে হবে।

এ ছাড়া শিক্ষাগত যোগ্যতার প্রমাণ হিসেবে এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমানের সনদের সত্যায়িত কপি জমা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। প্রত্যেক পর্যবেক্ষক সংস্থার প্রধানকে তার প্রতিষ্ঠানের নিয়োগকৃত পর্যবেক্ষকদের কোনো রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নেই—এই মর্মে প্রত্যয়ন দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে।

তবে এসব নির্দেশনার কোথাও পাশার পর্যবেক্ষক সংখ্যা কমানো বা তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে মুখে স্থগিতের ঘোষণা এলেও কাগজে-কলমে পাশার অবস্থান বহাল থাকছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

Visited 11 times, 1 visit(s) today