নিজস্ব প্রতিবেদক
চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম, জিম্মি করে চুক্তি স্বাক্ষর করানো এবং বিডা’র নির্বাহী চেয়ারম্যান চৌধুরী আশিক মাহমুদ বিন হারুনের (আশিক চৌধুরী) বিশাল কমিশন নেওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে।
জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের (সাবেক বন্দর-সিবিএ নেতা) নেতা ও চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবির গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের এস রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বন্দরে কর্মবিরতি ও অচলাবস্থা চলমান রয়েছে।
হুমায়ুন কবির বলেন,
“ডিপি ওয়ার্ল্ডের আড়ালে তার সিস্টার কনসার্ন ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড এফজেডই’র হাতে বন্দর তুলে দেওয়া হচ্ছে। বিডা চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সঙ্গে ডিপি ওয়ার্ল্ডের একটা চুক্তি আছে যে, এই কাজটা করে দিলে তাকে ৬০০ কোটি টাকা কমিশন দেওয়া হবে। এ কারণে তিনি দ্রুত চুক্তি করার জন্য চাপ দিচ্ছেন।”
তিনি অভিযোগ করেন, চুক্তির রিকুইজিশন পেপারে স্বাক্ষরের জন্য বিডা অফিসে চট্টগ্রাম বন্দরের ৩৫ জন কর্মকর্তাকে জিম্মি করে রাখা হয়েছিল। কর্মকর্তারা সেখানে বসে কাঁদছিলেন, কিন্তু তাদের ছাড়া হয়নি। পরবর্তীতে বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের চিফ, ডেপুটি চিফসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বাধ্য করা হয়েছে এতে স্বাক্ষর করতে।
হুমায়ুন কবির আরও বলেন, প্রথমে ডিপি ওয়ার্ল্ডকে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তারা গ্রহণ করেছিল এবং আলোচনা চলেছিল ডিপি ওয়ার্ল্ডের প্যাডে। কিন্তু চুক্তির সময় নাম এসেছে ‘ডিপি ওয়ার্ল্ড এফজেডই’—একটি নতুন কোম্পানি, যার বিশ্বে কোনো অবস্থান নেই। বিশ্বে ডিপি ওয়ার্ল্ড পঞ্চম স্থানে থাকলেও এফজেডই কোনো স্বীকৃতি পায়নি। এতে তিনি এটাকে ‘জোচ্চুরি’ বলে আখ্যায়িত করেন।
তিনি দাবি করেন, ডিপি ওয়ার্ল্ডকে কনটেইনারে ৭% কমিশন দিয়ে এই নতুন সত্তা তৈরি করে চুক্তি করা হয়েছে।
তিনি চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান মনিরুজ্জামানেরও সমালোচনা করেন। বলেন, তিনি এসব বিষয় এড়িয়ে গিয়ে চুক্তি বোর্ডে পাস করে সরকারের কাছে পাঠিয়েছেন। হুমায়ুন কবির সতর্ক করে বলেন, “যদি মনিরুজ্জামান বন্দরে থাকেন, তাহলে শুধু চট্টগ্রাম বন্দর নয়, পুরো দেশটাই বিক্রি করে দেবেন।”
এদিকে, এই চুক্তি নিয়ে বন্দর কর্মীদের কর্মবিরতি চলছে, যা দেশের আমদানি-রপ্তানি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এসব অভিযোগের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি, তবে শিপিং অ্যাডভাইজারসহ সংশ্লিষ্টরা চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
