নিজস্ব প্রতিবেদক
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ভোলা-৩ আসনের দলীয় প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম) বলেছেন, বিশ্ববাসী জানে যে জিয়াউর রহমানই স্বাধীনতার ঘোষক। তার ওপরে অন্য কাউকে স্থান দেওয়ার চেষ্টা জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বেরই প্রমাণ।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ইতিহাস আমরা জামায়াতের কাছ থেকে নয়, বরং মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকেই শুনতে চাই। এ ধরনের বক্তব্য জনগণ মেনে নেবে না।
৭ই ফেব্রুয়ারি, শনিবার দুপুরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি জামায়াতকে গুপ্তসংগঠন আখ্যায়িত করে তারা ভোটে প্রভাব বিস্তার করছে বলেও অভিযোগ করেন।
মেজর হাফিজ জানান, আসন্ন নির্বাচন তার জন্য দশম নির্বাচন। তিনি বলেন, অতীতের তিনটি নির্বাচনে তিনি ভোট দিতে পারেননি এবং সে সময় বাসায় গৃহবন্দি অবস্থায় ছিলেন। তবে এবার নির্বাচনের পরিবেশকে তিনি সুষ্ঠু মনে করছেন।
তার দাবি, এখন পর্যন্ত কেউ নির্বাচনী আইনশৃঙ্খলা ভঙ্গ করেনি।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, এবারের নির্বাচনে বিএনপির বিজয় নিশ্চিত হবে। তার মতে, দেশের মানুষ স্বাধীনতাবিরোধী কোনো দলকে ভোট দেবে না।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যখন সারাদেশ স্বাধীন বাংলাদেশের জন্য লড়াই করছিল এবং তরুণ শিক্ষার্থীরা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল, তখন জামায়াতে ইসলামী পাকিস্তানি বাহিনীর সহযোগী ছিল।
তিনি বলেন, এই ইতিহাস এত দ্রুত মানুষের স্মৃতি থেকে মুছে যাবে না।
তাই তার বিশ্বাস, স্বাধীনতাকামী জনগণ কখনোই জামায়াতে ইসলামীকে রাষ্ট্রক্ষমতায় বসাবে না।
তিনি আরও বলেন, এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ১০ থেকে ২০টি আসন পেতে পারে। অতীতে তারা ১৮টি আসন পেয়েছিল, এবার হয়তো কিছুটা বেশি পেতে পারে।
তবে রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়া বা বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
এ ছাড়া তিনি বলেন, দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ ভোট দেওয়ার জন্য আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। বিচ্ছিন্ন দু-একটি ঘটনা নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারবে না।
জনগণের রায়ে আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।
