হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ভারতের সঙ্গে লড়াই বয়কট করার যে হুমকি পাকিস্তান দিয়েছে, মুম্বাইয়ের ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট মহলে তাকে খুব একটা গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে না। ধারণা করা হচ্ছে, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে আসা এই ঘোষণাটিই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়।
পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকে (আইসিসি) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো চিঠি দিয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে সংশ্লিষ্ট মহলে আলোচনা চলছে যে, পাকিস্তান যদি কেবল ভারতের সঙ্গে ম্যাচটি না খেলার সিদ্ধান্তে অনটল থাকে, তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ। আইসিসি তাদের সার্বভৌমত্ব এবং স্বায়ত্তশাসন নিয়ে কোনো আপস করবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। সেক্ষেত্রে দুবাই থেকে কঠোর কোনো ব্যবস্থা আসা প্রায় নিশ্চিত।
আইসিসি স্পষ্ট করে দিয়েছে, শেষ মুহূর্তে এক বা দুটি বোর্ডের খামখেয়ালিতে তারা কোনো ভুল নজির সৃষ্টি করতে চায় না। নিজেদের কর্তৃত্ব রক্ষায় যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত সংস্থাটি। পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) জন্য সদস্য দেশগুলোকে ‘এনওসি’ না দিতে বলা, পাকিস্তানকে এশিয়া কাপ থেকে নিষিদ্ধ করা কিংবা আইসিসির রাজস্বের ভাগ বন্ধ করে দেওয়ার মতো কঠোর সিদ্ধান্তও আসতে পারে।
বিশ্বকাপের ৫৫টি ম্যাচের মধ্যে ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ নিঃসন্দেহে সবচেয়ে আকর্ষণীয়। ১৫ ফেব্রুয়ারির এই ম্যাচের বাণিজ্যিক মূল্য আলাদাভাবে হিসেব করা কঠিন, কারণ এটি পুরো টুর্নামেন্ট প্যাকেজের অংশ। তবে বাজারমূল্য অনুযায়ী, ভারতের প্রতিটি আন্তর্জাতিক ম্যাচের দাম এখন প্রায় ১০০ কোটি রুপি। ভারত-পাকিস্তান লড়াইয়ের ক্ষেত্রে এই অংকটা দ্বিগুণ বা তার বেশি হওয়া স্বাভাবিক। তাই ম্যাচটি না হলে ২০০ কোটি রুপির বেশি লোকসান হবে বলেই মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
বেছে বেছে ম্যাচ খেলা নিয়ে আইসিসির সতর্কতা
রবিবার রাতে এক বিবৃতিতে আইসিসি সরাসরি জানিয়েছে, বেছে বেছে নির্দিষ্ট ম্যাচে অংশগ্রহণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। সংস্থাটি বলেছে, ‘একটি বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে সব দল সমান শর্তে খেলবে—এটাই মূল ভিত্তি। পিসিবির এমন অবস্থান প্রতিযোগিতার চেতনা ও সততাকে ক্ষুণ্ণ করে।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজন করা পিসিবিসহ সব সদস্যের দায়িত্ব। আইসিসি আশা করে, পিসিবি এমন এক সমাধানে আসবে যা সবার স্বার্থ রক্ষা করবে।
পাকিস্তান সরকারকে উদ্দেশ্য করে আইসিসি জানায়, জাতীয় নীতির বিষয়ে সরকারের ভূমিকাকে সম্মান করলেও এই সিদ্ধান্ত ক্রিকেটের বিশ্বজনীন স্বার্থের পরিপন্থী। এর ফলে পাকিস্তানের ক্রিকেটে যে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি।
