পুতিনের সঙ্গে আল-শারার বৈঠক, সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি টিকিয়ে রাখতে চায় রাশিয়া

পুতিনের সঙ্গে আল-শারার বৈঠক, সিরিয়ায় সামরিক উপস্থিতি টিকিয়ে রাখতে চায় রাশিয়া
শেয়ার করুন

সিরিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারা রাশিয়া সফরে গিয়ে মস্কোয় দেশটির প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। সিরিয়ায় দীর্ঘদিনের মিত্র বাশার আল-আসাদ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পর এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন রাশিয়া দেশটিতে নিজেদের সামরিক ঘাঁটি ও প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করছে।

বৈঠকের আগে এক সংবাদ সম্মেলনে আল-শারা সিরিয়ার ঐক্য ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার প্রশ্নে রাশিয়ার ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, অতীতে রাশিয়া যে ভূমিকা রেখেছে, তা এই অঞ্চলের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হবে। অন্যদিকে পুতিন সিরিয়ায় স্থিতিশীলতা ফেরাতে আল-শারার উদ্যোগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা পুনঃপ্রতিষ্ঠার পথে অগ্রগতির জন্য তাকে অভিনন্দন জানান।

তবে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধের সময় দীর্ঘ এক দশকের বেশি সময় পুতিন ও আল-শারা বিপরীত অবস্থানে ছিলেন। সে কারণে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিরিয়ায় রাশিয়ার সামরিক ভবিষ্যৎ নিয়ে মস্কোর ভেতরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে সিরিয়ায় অবস্থানরত রুশ সেনাদের বিষয়টি গুরুত্ব পায় বলে জানিয়েছে ক্রেমলিন।

বর্তমানে সিরিয়ার ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলে খমেইমিম বিমানঘাঁটি ও তারতুস নৌঘাঁটিতে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি রয়েছে। সম্প্রতি উত্তর-পূর্ব সিরিয়ার কুর্দি অধ্যুষিত কামিশলি বিমানবন্দর থেকে রুশ বাহিনী প্রত্যাহারের খবরও প্রকাশিত হয়েছে। এর ফলে সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের বাইরে রাশিয়ার একমাত্র সামরিক ঘাঁটি হিসেবে সিরিয়াই কার্যত রয়ে গেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বাশার আল-আসাদ পতনের পর মস্কো আশঙ্কা করেছিল, নতুন সরকার হয়তো রাশিয়াবিরোধী অবস্থান নেবে। তবে আল-শারা এখন পর্যন্ত তুলনামূলক বাস্তববাদী কূটনীতি অনুসরণ করছেন। তিনি একদিকে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক গড়তে আগ্রহী, অন্যদিকে রাশিয়ার সঙ্গেও যোগাযোগ বজায় রাখতে চাইছেন।

আল-শারা আগেও প্রকাশ্যে বাশার আল-আসাদকে সিরিয়ায় ফেরত এনে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি তুলেছেন। তবে এ বিষয়ে রাশিয়া এখনো কোনো স্পষ্ট অবস্থান জানায়নি। মস্কোতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকেও আসাদ প্রত্যর্পণ প্রশ্নে কোনো ঘোষণা আসেনি।

এদিকে সিরিয়ার নতুন নেতৃত্ব ধীরে ধীরে দেশটির পররাষ্ট্রনীতির দিক পরিবর্তন করছে। রাশিয়ার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কৌশলগত সম্পর্ক গড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে দামেস্ক। ওয়াশিংটনও কিছু ক্ষেত্রে এই উদ্যোগে ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে। একই সময়ে দেশটির অভ্যন্তরে কুর্দি নেতৃত্বাধীন বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ থামাতে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।

সব মিলিয়ে, মস্কোয় আল-শারা ও পুতিনের বৈঠক সিরিয়ার ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক ও সামরিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।

Visited 6 times, 1 visit(s) today