জুলাই আন্দোলনের পুরস্কার হিসেবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে তাদেরই ভোট ঠেকাতে ব্যস্ত ড. ইউনুসের সরকার

জুলাই আন্দোলনের পুরস্কার হিসেবে রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব দিয়ে তাদেরই ভোট ঠেকাতে ব্যস্ত ড. ইউনুসের সরকার
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সাম্প্রতিক সরকারি প্রজ্ঞাপন বা নির্দেশনায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোকে নির্বাচনকালীন সময়ে সিল বা লকডাউনের মতো ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে, যা আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬) এবং সম্ভাব্য রেফারেন্ডামের সঙ্গে যুক্ত। এতে কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ক্যাম্পগুলোকে ভোটের আগে-পরে সিল করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে রোহিঙ্গারা নির্বাচনী তৎপরতা থেকে দূরে থাকে।

নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মোহাম্মদ সানাউল্লাহসহ সংশ্লিষ্টরা কক্সবাজারকে অস্ত্র ও মাদক পাচারের হাব হিসেবে উল্লেখ করে যৌথ বাহিনীর অভিযান, গ্রেপ্তার ও কড়া নিয়ন্ত্রণের কথা বলেছেন।

 

এই নির্দেশনা বিডিডাইজেস্টের পূর্ববর্তী রিপোর্টের আশঙ্কাকে যেন সত্য প্রমাণ করছে। ওই রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে, জুলাই আন্দোলনের সময় রোহিঙ্গাদের সম্পৃক্ত করার বিনিময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাদের পুরস্কারস্বরূপ এনআইডি বা ভোটার আইডি প্রদান করেছে। এছাড়া জুলাইয়ের পর হাজার হাজার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ফিরে আসেনি।

পূর্ববর্তী খবরঃ ভুয়া পরিচয়ে রোহিঙ্গাদের এনআইডি ও পাসপোর্ট: অনুসন্ধানে উঠে আসছে দালালচক্রের চক্রান্ত

এখন সরকারি চিঠি/প্রজ্ঞাপনে স্বীকার করা হচ্ছে যে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে বিভিন্ন সশস্ত্র দল সক্রিয় রয়েছে, অবৈধ অস্ত্র মজুত আছে এবং স্বার্থান্বেষী মহল নির্বাচনকালে তাদের নাশকতামূলক কাজে ব্যবহার করতে পারে। একইসঙ্গে রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির সত্যতা নিশ্চিত হয়েছে এবং আশঙ্কা করা হচ্ছে যে, তারা আসন্ন নির্বাচনে ভোট দিতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—সরকার যদি জেনেই থাকে যে ক্যাম্পে সশস্ত্র গ্রুপ ও অস্ত্র রয়েছে, তাহলে এতদিন কেন কোনো কার্যকর দমন অভিযান বা অস্ত্র উদ্ধারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি? কেন নির্বাচন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হলো? স্বার্থান্বেষী মহল যদি হঠাৎ করে তাদের ব্যবহার না করে, তাহলে তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা থাকা কি স্বাভাবিক নয়?

আরও গুরুতর প্রশ্ন—যদি রোহিঙ্গাদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্তির বিষয় জানা যায়, তাহলে কেন চিহ্নিত করা যাচ্ছে না কারা এই ভোটার এবং কারা কীভাবে তাদের তালিকায় ঢুকিয়েছে? এই রোহিঙ্গা ভোটাররা ক্যাম্প থেকে ভোট দিতে যাবে না—এমন নিশ্চয়তা কে দেবে?

যাদের ভোটার করা হয়েছে বা সহায়তা করা হয়েছে, তাদের ভোট দেওয়ায় সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী সহায়তা করবে না—এর কোনো গ্যারান্টি নেই।

জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এবং রোহিঙ্গা সমস্যা বিষয়ক হাই রিপ্রেজেন্টেটিভ ড. খলিলুর রহমান এতদিন কী করলেন? তিনি এই সংকটময় পরিস্থিতিতে রোহিঙ্গা ইস্যু ও জাতীয় নিরাপত্তার দায়িত্বে থেকেও কেন এই অবৈধ অনুপ্রবেশ, অস্ত্র মজুত ও সম্ভাব্য নির্বাচনী হস্তক্ষেপ রোধে কার্যকর ভূমিকা পালন করতে পারেননি? এই প্রশ্নগুলো জাতীয় নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি করেছে।

সরকারের এই পদক্ষেপ যদিও নিরাপত্তার দিক থেকে যুক্তিযুক্ত মনে হতে পারে, তবু পূর্বের আশঙ্কা ও বর্তমান বাস্তবতা মিলিয়ে দেখলে এটি একটি গভীর রাজনৈতিক-নিরাপত্তা সংকটের ইঙ্গিত বহন করে।

Visited 15 times, 1 visit(s) today