নিজস্ব প্রতিবেদক
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির কাঠামো এক মৌলিক ভাঙনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং অতীতের ক্ষমতার ভারসাম্য আর আগের অবস্থায় ফিরবে না—এমন মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি কোনো ধীর রূপান্তর নয়, বরং একটি গভীর ছেদ, যা আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ধরন পাল্টে দিচ্ছে।
কার্নি বলেন, বর্তমান বিশ্বে মাঝারি শক্তিধর দেশগুলোর একা দাঁড়িয়ে থাকা আর সম্ভব নয়। তাঁর ভাষায়, “আমরা যদি আলোচনার টেবিলে না থাকি, তাহলে সিদ্ধান্তের শিকার হব।” তিনি ইঙ্গিত দেন, প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো এখন অর্থনৈতিক সম্পর্ক, শুল্কনীতি ও আর্থিক কাঠামোকে চাপ প্রয়োগের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বক্তৃতায় তিনি গ্রিনল্যান্ড ও ডেনমার্কের প্রতি কানাডার দৃঢ় সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন এবং ন্যাটো জোটের প্রতি অঙ্গীকারের বিষয়টি তুলে ধরেন। এ বক্তব্যে সম্মেলন কক্ষে উপস্থিত প্রতিনিধিদের কাছ থেকে করতালিও পাওয়া যায়। যদিও তিনি কোনো দেশের নাম উল্লেখ করেননি, তবে তাঁর বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক অবস্থানের প্রতি পরোক্ষ ইঙ্গিত রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
কার্নি বলেন, একসময় ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক মিত্রতা নিরাপত্তা ও সমৃদ্ধির নিশ্চয়তা দিত, কিন্তু সেই ধারণা এখন আর কার্যকর নয়। তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো এখন শুল্ককে চাপের মাধ্যম, সরবরাহব্যবস্থাকে দুর্বলতার জায়গা এবং আর্থিক ব্যবস্থাকে প্রভাব বিস্তারের কৌশল হিসেবে ব্যবহার করছে।
ন্যাটো সদস্য হিসেবে কানাডা গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট জনগণ ও ডেনমার্কের অধিকারকে সমর্থন করে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে জোটের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা নীতির প্রতি কানাডার অটল অবস্থানের কথাও তুলে ধরেন।
সাম্প্রতিক সময়ে কানাডা ও গ্রিনল্যান্ডে সামরিক মহড়া নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে কানাডার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনিতা আনন্দ জানান, ন্যাটোর অধীনে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে কানাডার অংশগ্রহণ নিয়মিত ঘটনা এবং ভবিষ্যৎ মোতায়েনের সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষ নেবে।
পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক বাস্তবতায় কানাডা এখন ভিন্ন ভিন্ন ইস্যুতে অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে নতুন জোট ও অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বলে জানান কার্নি। তিনি কানাডাকে একটি স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে তুলে ধরে চীন, কাতার ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সাম্প্রতিক বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতার উদাহরণ দেন।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামে এ সপ্তাহে একাধিক দেশের শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনের পরবর্তী অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে, যা বৈশ্বিক রাজনীতি ও অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনাকে আরও গুরুত্ব দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।
