মব শব্দ ব্যবহার না করতে প্রকাশ্যে হুমকি প্রসিকিউটর তাজুলের, নিন্দা রাজনৈতিক অঙ্গনে

মব শব্দ ব্যবহার না করতে প্রকাশ্যে হুমকি প্রসিকিউটর তাজুলের, নিন্দা রাজনৈতিক অঙ্গনে
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

‘মব’ শব্দ ব্যবহার না করতে হুমকি দিয়েছেন এবি পার্টির নেতা ও ইউনূস সরকারের ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম। তার এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। তারা এটিকে তাজুলের ‘থ্রেট’ হিসেবে দেখছেন।

একইসাথে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের বিচারের ক্ষেত্রে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন না করে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য গঠিত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিচারের সিদ্ধান্তেরও সমালোচনা করেন বক্তারা। তারা বলেন, এতে বিচার প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে।

গতকাল ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ আয়োজিত ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আইনের শাসন’ শীর্ষক সংলাপে তাজুল ইসলাম এ মন্তব্য করলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন নেতৃবৃন্দ। ক্ষোভের মুখে তাজুল বক্তব্য শেষে দ্রুত সটকে পড়েন বলে জানান উপস্থিত অতিথিরা।

এ বক্তব্যের প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স কঠোর সমালোচনা করেন তাজুল ইসলামের বক্তব্যের। তিনি মন্তব্যটিকে ‘থ্রেট’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

প্রিন্স বলেন, আপনি একদিকে আইনের শাসনের কথা বলছেন, অন্যদিকে মবকে উস্কানি দিচ্ছেন এর মানে কী? এটা বাংলাদেশে চলতে পারে না। এভাবে চললে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়।

বাসদের সাধারণ সম্পাদক বজলুর রশীদ ফিরোজও চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন। তার বক্তব্যকে থ্রেট ও উস্কানী বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তাজুল তার বক্তব্যে বলেন, মব শব্দটি ব্যবহারের আগে আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বাস্তিল দুর্গের পতনের সঙ্গে রাস্তার ছিনতাইকারীদের মবকে এক কাতারে ফেলা যায় না। গণভবনের পতনের মধ্য দিয়ে যে বিপ্লবের অর্জন এসেছে, সেই বিপ্লব ও বিপ্লবীদের বারবার ‘মব’ শব্দ ব্যবহার করে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ যদি সুকৌশলে তা করতে চায়, তবে সবাইকে সংযত হতে হবে। এটা কখনো করা উচিত নয়।

বিপ্লবকে প্রশ্নবিদ্ধ করার কোনো আয়োজনও সহ্য করা হবে না-বলেও হুমকি দেন তাজুল।

অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, আইনজীবী, মানবাধিকারকর্মী ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় বিচার বিভাগের স্বাধীনতার পাশাপাশি ‘মব’ প্রসঙ্গ উঠে আসে এবং এটি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার সমালোচনা করেন রাজনীতিবিদরা।

তাজুল ইসলামের বক্তব্যের আগে জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারীও সরকারকে ‘মব’ ইস্যুতে দায়ী করেন।

তিনি বলেন, মবকে সরকারিভাবে প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছিল, আর এখন সেই মব সরকারকে, নির্বাচন কমিশনকে এমনকি দেশকেও গ্রাস করতে পারে। তখন মবকে নিয়ন্ত্রণ না করার ফলই এখন ভোগ করতে হচ্ছে।’

তাজুল ইসলামের বক্তব্যকে মবকে বৈধতা প্রদানের শামিল বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন সিপিবির নেতা রুহিন হোসেন প্রিন্স।

তিনি বলেন, ‘উনি থাকলে সরাসরি কথাটা বলতে চেয়েছিলাম। আমার মনে হয়েছে, উনি এক ধরনের থ্রেট দিয়েছেন। মবকে জাস্টিফাই করা হচ্ছে এটা কীভাবে সম্ভব?’

Visited 2 times, 1 visit(s) today