নিজস্ব প্রতিবেদক
কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও আলোচিত ইসলামী বক্তা মুফতি আমির হামজা বর্তমানে তীব্র বিতর্কের মুখে পড়েছেন। সম্প্রতি প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে তার ২০২৩ সালের একটি ওয়াজে দেওয়া কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর বিএনপি নেতাকর্মীদের তোপের মুখে পড়েন তিনি। এর জের ধরে ১৬ জানুয়ারি রাতে ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাজেদুর রহমান পপপু তাকে জেলায় অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে আজ রবিবার (১৮ জানুয়ারি ২০২৬) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দিয়ে আমির হামজা দাবি করেছেন যে, গতকাল থেকে বিভিন্ন মাধ্যমে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
তিনি লিখেছেন, “আমি মৃত্যুর জন্য সব সময় প্রস্তুত ইনশাআল্লাহ।” এরপরই তিনি তার অনুসারীদের উদ্দেশ্যে আবেগঘন অনুরোধ জানিয়ে বলেন, “আপনাদের কাছে অনুরোধ রইল, আমার অনুপস্থিতিতে কুষ্টিয়াতে যেই ইনসাফ কায়েমের লড়াই আমরা শুরু করেছি সেটা প্রতিষ্ঠিত করবেন এবং আমার ৩ শিশু কন্যাসন্তানকে একটু দেখে রাইখেন।”
এই পোস্ট প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র হাস্যরসের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে অভিযোগ করছেন যে, আমির হামজা অতীতে নারীদের নিয়ে একাধিক বিতর্কিত ও কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য দিয়ে এসেছেন, যেগুলো ধর্মীয় মাহফিলে নারীদের অবমাননাকরভাবে উপস্থাপন করে এবং পুরুষতান্ত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রচার করেছেন।
তিনি বিভিন্ন ওয়াজে নারীদের “চক্রান্ত”কে শয়তানের চক্রান্তের চেয়েও ভয়াবহ বলে উল্লেখ করেছেন, যা নারীদের প্রতি সন্দেহজনক ও নেতিবাচক ধারণা ছড়ায়। তার কিছু বক্তব্যে নারীদের দাম্পত্য জীবন, আচরণ ও ভূমিকা নিয়ে অশ্লীলতার অভিযোগ উঠেছে, যা অনলাইনে হেট স্পিচ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং নারীদের অধীনস্থতা ও নিয়ন্ত্রণের ধারণা প্রচার করে। এছাড়া তার ওয়াজগুলোতে নারীদের প্রতি অবমাননাকর ভাষা ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে, যা বাংলাদেশে অনলাইন মিসোজিনি (নারী-বিদ্বেষ) এর অংশ হিসেবে দেখা হয়।
এখন নিজের পুরোনো কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যের জেরে সৃষ্ট বিতর্ক থেকে জনসমর্থন ও সহানুভূতি আদায়ের জন্য নিজের নাবালক কন্যাদের এভাবে সামনে আনছেন বলে সমালোচকরা মনে করছেন। তারা বলছেন, এটি এক ধরনের আবেগীয় চাপ সৃষ্টির কৌশল, যা তার বক্তব্যের গুরুতর অভিযোগকে ঢাকার চেষ্টা এবং রাজনৈতিক ইমেজ রক্ষার প্রয়াস।
উল্লেখ্য, আমির হামজা ওয়াজ মাহফিলের মৌসুমে ঝিনাইদহের বিভিন্ন উপজেলা ও ইউনিয়নে অসংখ্য মাহফিলে প্রধান বক্তা হিসেবে অংশ নিয়ে আসছেন এবং তার কিছু বক্তব্যের জন্য অতীতেও সমালোচিত হয়েছেন। কোকোকে নিয়ে তার মন্তব্যের পর কুষ্টিয়া জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়েছে এবং কুষ্টিয়ায় নারীদের ঝাড়ু মিছিলসহ প্রতিবাদ হয়েছে। পরে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেছেন, বক্তব্যটি ২০২৩ সালের এবং ভুল হলে তিনি স্বীকার করেন। এই ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক মহলে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।
