নিজস্ব প্রতিবেদক
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কারাগারে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের রহস্যজনক মৃত্যুর মিছিলে নতুন করে যুক্ত হয়েছেন প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও পাবনা জেলা আওয়ামী লীগের সাংস্কৃতিক সম্পাদক প্রলয় চাকী। এই ঘটনা দেশের কারা হেফাজতে আওয়ামী লীগ নেতাদের নিরাপত্তা ও মানবাধিকার নিয়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
প্রলয় চাকীকে গত ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫-এ পাবনার নিজ বাড়ি থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আটক করে। ডিবি পুলিশের দাবি ছিল, এটি ‘ডেভিল হান্ট’ অভিযানের অংশ। আটকের পর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক খবরে জানা যায়, কারাগারে থাকাকালীন তিনি অসুস্থ হয়ে মারা যান। কারা কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক দাবি হৃদরোগ বা অন্যান্য পূর্ব-অসুস্থতা, কিন্তু তার পরিবার ও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এটিকে রহস্যজনক বলে অভিহিত করেছেন।
প্রলয় চাকীর ছেলে সানী চাকী বলেছেন, আটকের সময় কোনো ওয়ারেন্ট ছিল না এবং বাবার স্বাস্থ্য ভালো ছিল।
এই মৃত্যু আওয়ামী লীগের দাবি অনুসারে কাস্টোডিয়াল ডেথের একটি নতুন অধ্যায়। দলটির বিবৃতি ও বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে (ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর) কারাগারে বা পুলিশ হেফাজতে অন্তত পঞ্চাশের জন আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীর মৃত্যু হয়েছে। এদের মধ্যে বগুড়া কারাগারে এক মাসে চারজন, নওগাঁয় এক সপ্তাহে সাতজন, গাইবান্ধায় তারিক রিফাত, মুন্সীগঞ্জে সারোয়ার হোসেন নান্নু, গাজীপুরের কাশিমপুরে ওয়াসিকুর রহমান বাবু এবং আরও অনেকের নাম উল্লেখযোগ্য।
অধিকাংশ ক্ষেত্রে কারা কর্তৃপক্ষের দাবি হার্ট অ্যাটাক বা পূর্ব-অসুস্থতা, কিন্তু আওয়ামী লীগ ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো এগুলোকে টর্চার, চিকিৎসা অস্বীকার এবং পরিকল্পিত হত্যা বলে অভিযোগ করছে।
আওয়ামী লীগের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “কারাগার আর সংশোধনাগার নয়, এখন এগুলো বিরোধী দলের নেতাদের নির্মূলের গোপন ঘাঁটি। আওয়ামী লীগের পরিচয় এখন মৃত্যুদণ্ডের সমতুল্য।” দলটি স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এই ঘটনাগুলোর তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, হেফাজতে মৃত্যুর দায় রাষ্ট্রের।
এই ধারাবাহিক ঘটনা আইনের শাসন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের গুরুতর উদাহরণ। অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের ঘোষণা আসেনি। এই পরিস্থিতিতে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের মধ্যে কারাগারে থাকা স্বজনদের নিয়ে আশঙ্কা ও ভয়াবহতা ক্রমশ বাড়ছে। দেশের কারা ব্যবস্থা ও রাজনৈতিক বন্দীদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।
