সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ: ইউএই’র সহায়তায় ইয়েমেন ছাড়লেন এসটিসি নেতা জুবাইদি

সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের অভিযোগ: ইউএই’র সহায়তায় ইয়েমেন ছাড়লেন এসটিসি নেতা জুবাইদি
শেয়ার করুন

ইয়েমেনে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন জোট অভিযোগ করেছে যে, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) দেশটি থেকে এক বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতাকে গোপনে বের করে নিতে সহায়তা করেছে। ওই নেতাকে ইয়েমেনের প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিল থেকে বহিষ্কার করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগ আনা হয়েছিল।

জোটের এক মুখপাত্র জানান, ইউএই-সমর্থিত সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)-এর প্রধান আইদারুস আল-জুবাইদি মঙ্গলবার রাতে নৌকায় করে ইয়েমেনের বন্দরনগরী এডেন ত্যাগ করে সোমালিল্যান্ডে পালিয়ে যান। পরে মোগাদিশু হয়ে একটি কার্গো বিমানে তাকে আবুধাবিতে নিয়ে যাওয়া হয়। এই পুরো অভিযানে ইউএই কর্মকর্তারা তত্ত্বাবধান করেছেন বলে দাবি করা হয়।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ইউএই বা এসটিসির পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে এসটিসি দাবি করেছে, বুধবারও জুবাইদি এডেন থেকেই তার দায়িত্ব পালন করছিলেন। এর আগে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, রিয়াদে আলোচনায় যোগ দিতে ব্যর্থ হওয়ার পর তিনি অজ্ঞাত স্থানে পালিয়ে গেছেন।

জোট আরও অভিযোগ করেছে, জুবাইদি এডেনের ঘাঁটি থেকে এসটিসি যোদ্ধাদের নিজের জন্মপ্রদেশ আল-ধালেহে সরিয়ে নিয়েছেন। এর জবাবে সৌদি নেতৃত্বাধীন বাহিনী তাদের লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে। এসটিসির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি এই হামলাকে “অযৌক্তিক” ও “সংলাপের আহ্বানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ” বলে আখ্যা দিয়েছে।

গত এক দশক ধরে ইরানসমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে সৌদি আরব ও ইউএই মিত্র হিসেবে কাজ করলেও, তারা যে ভিন্ন ভিন্ন ইয়েমেনি পক্ষকে সমর্থন করছে, সেই দ্বন্দ্ব এখন প্রকাশ্য রূপ নিয়েছে। এতে দক্ষিণ ইয়েমেন নতুন করে সংঘাতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে।

বৃহস্পতিবার জোটের মুখপাত্র মেজর জেনারেল তুর্কি আল-মালকি বলেন, তাদের কাছে “নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য” রয়েছে যে জুবাইদি ও তার সহযোগীরা বুধবার ভোরে সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিসের পতাকাবাহী একটি যাত্রীবাহী জাহাজে করে এডেন বন্দর ছেড়ে যান। জাহাজটি গালফ অব এডেন পাড়ি দিয়ে সোমালিল্যান্ডের বারবেরা বন্দরে পৌঁছায়, যেখানে একটি ইলিউশিন আইএল-৭৬ কার্গো বিমান প্রস্তুত ছিল।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইউএই কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধানে তারা বিমানে ওঠেন এবং প্রথমে সোমালিয়ার রাজধানী মোগাদিশু যান। এরপর বিমানটি গন্তব্য ঘোষণা না করেই আরব সাগরের দিকে উড়ে যায়। ওমান উপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় বিমানটি তার শনাক্তকরণ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেয় এবং আবুধাবির আল-রিফ সামরিক ঘাঁটিতে অবতরণের মাত্র ১০ মিনিট আগে তা আবার চালু করা হয়।

সোমালিয়ার অভিবাসন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তাদের আকাশসীমা ও বিমানবন্দরের “অননুমোদিত ব্যবহারের অভিযোগ” তদন্ত করা হচ্ছে।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসটিসি-সমর্থিত বাহিনী দক্ষিণ ইয়েমেনের বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে। তাদের লক্ষ্য অঞ্চলটিকে আবার একটি স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত করা। তবে সৌদি আরব সতর্ক করে বলেছে, তাদের সীমান্তের কাছে এই অগ্রগতি ইয়েমেন ও সৌদি আরব—উভয়ের নিরাপত্তার জন্য হুমকি।

গত সপ্তাহে সৌদি আরব অভিযোগ করে যে, ইউএই তাদের বিচ্ছিন্নতাবাদী মিত্রদের পূর্ব ইয়েমেনে অগ্রসর হতে চাপ দিচ্ছে এবং প্রেসিডেনশিয়াল কাউন্সিলের ইউএই বাহিনী প্রত্যাহারের দাবিকে সমর্থন জানায়। একই সময়ে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট দাবি করে, ইউএই থেকে আসা এসটিসির জন্য পাঠানো অস্ত্র ও সামরিক যানবাহনের একটি চালানে তারা হামলা চালিয়েছে।

ইউএই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে “গভীর দুঃখ” প্রকাশ করে এবং জানায়, তারা ইয়েমেন থেকে তাদের অবশিষ্ট বাহিনী প্রত্যাহার করবে।

এরপর থেকে সৌদি সমর্থিত সরকারি বাহিনী হাদরামাউত ও আল-মাহরা প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার প্রত্যক্ষদর্শী ও সরকারি কর্মকর্তারা রয়টার্সকে জানান, বন্দরনগরী এডেনও ধীরে ধীরে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে চলে যাচ্ছে।

Visited 5 times, 1 visit(s) today