ভারত থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আমদানিঃ শেখ হাসিনা আমলের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনে জ্বলানি সরবরাহ শুরু

ভারত থেকে ২ লাখ টন ডিজেল আমদানিঃ শেখ হাসিনা আমলের দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অধীনে জ্বলানি সরবরাহ শুরু
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬: বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি লিমিটেড (এনআরএল)-এর সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তির অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ১ লাখ ৮০ হাজার টন (প্লাস-মাইনাস ১০ শতাংশ) লো-সালফার (০.০০৫ শতাংশ সালফার) ডিজেল আমদানির অনুমোদন দিয়েছে।
এই ডিজেল ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ পাইপলাইনের মাধ্যমে সরবরাহ করা হবে, যার মূল্য প্রায় ১১৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার (প্রায় ১,৪৬২ কোটি টাকা)। শেখ হাসিনা সরকারের আমলে করা এই চুক্তির অধীনেই ২০২৫ সালের ২ ডিসেম্বর ভার্চুয়াল মিটিংয়ে ২০২৬ সালের জন্য ডিজেল আমদানির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে, যেখানে বিদ্যমান প্রাইসিং ফ্রেমওয়ার্কের অধীনে সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়।
এই সরবরাহ চুক্তি আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে ২০১৭ সালে স্বাক্ষরিত ১৫ বছর মেয়াদী সেল পারচেজ অ্যাগ্রিমেন্টের (এসপিএ) অংশ। পাইপলাইনটি ২০২৩ সালের মার্চে উদ্বোধন হয়েছে, যার মোট দৈর্ঘ্য ১৩১.৫৭ কিলোমিটার (ভারতে ৫ কিমি, বাংলাদেশে ১২৬.৫৭ কিমি) এবং ক্ষমতা বার্ষিক ১ মিলিয়ন মেট্রিক টন (এমএমটিপিএ)। পাইপলাইনটি ভারতের আসামের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে সিলিগুড়ি মার্কেটিং টার্মিনাল হয়ে বাংলাদেশের দিনাজপুরের পরবতীপুর ডিপোতে ডিজেল সরবরাহ করে, যা উত্তরাঞ্চলের ১৬ জেলায় বিতরণ করা হয়। আগে রেলপথে সরবরাহ হতো, কিন্তু পাইপলাইন চালু হওয়ায় পরিবহন খরচ কমেছে এবং সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন হয়েছে।
দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে বার্ষিক আমদানি পরিমাণ ধাপে ধাপে বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে: প্রথম তিন বছর ২.৫ লাখ টন, পরবর্তীতে ৩ লাখ, ৩.৫ লাখ এবং শেষে ৪ লাখ টন। এটি দেশের জ্বালানি চাহিদা (বার্ষিক প্রায় ৭৪ লাখ টন রিফাইন্ড ফুয়েল, যার ৮০ শতাংশ আমদানি) মেটাতে সহায়ক।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন থাকলেও জ্বালানি, খাদ্য ও কৃষি খাতে ভারতীয় আমদানি অব্যাহত, বরং বাণিজ্য নির্ভরশীলতা আগের চেয়েও বাড়ছে। ভারত বাংলাদেশ থেকে ৪২% আমদানি সীমিত করেছে, যা বাংলাদেশের ৭৭০ মিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানিকে প্রভাবিত করেছে। এর ফলে বেনাপোলের মতো সীমান্ত দিয়ে বাণিজ্য হ্রাস পেয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্ভরতা অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি। আমদানি বৈচিত্র্যকরণ এবং দেশীয় রিফাইনারি সক্ষমতা বাড়ানো না হলে এই নির্ভরশীলতা আরও গভীর হবে। সরকারের কাছে দাবি উঠেছে বাণিজ্য ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার।
Visited 12 times, 1 visit(s) today