কৃষি ব্যবস্থাপনার ধস: আমদানীকৃত জর্ডানি ডিএপি সারে ফসল নষ্ট, নওগাঁর কৃষকরা সর্বস্বান্ত

কৃষি ব্যবস্থাপনার ধস: আমদানীকৃত জর্ডানি ডিএপি সারে ফসল নষ্ট, নওগাঁর কৃষকরা সর্বস্বান্ত
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

ঢাকা, ৬ জানুয়ারি, ২০২৬: অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে কৃষি খাতের সুনিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থাপনা ১৭ মাসে ধ্বংস হয়ে গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সময়মতো সার সরবরাহ না করতে পারা, দেরীতে সার প্রয়োগে উৎপাদন কম এর সাথে গ্যাস সংকটে সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় জর্ডান থেকে আমদানি করা ডিএপি সার প্রয়োগে ফসল নষ্ট হয়ে কৃষকরা সর্বস্বান্ত হচ্ছেন।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় এই সার ব্যবহারে শশা ও আলুর গাছ পুড়ে যাওয়ার মতো হয়ে ফসলহীন হয়ে পড়েছে কৃষকরা। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ভেজাল বা নিম্নমানের সারের কারণে ফসল ক্ষতির খবর আসছে, যা দুর্ভিক্ষের হাতছানি দিচ্ছে।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার কালিকাপুর, আটগ্রাম ও ডাঙ্গাপাড়া বিলে শশা ও আলু চাষে জর্ডান থেকে আমদানি করা ডিএপি সার প্রয়োগ করে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। এলাকায় উঁচু জমিতে এ দুটি ফসলের চাষ বেশি হয়, যা জমি উচ্চমূল্যে লিজ নিয়ে করা হয়। প্রতি বিঘা জমির লিজ মূল্য ৩০ হাজার টাকা এবং বীজ, সার, শ্রমিক, হালচাষসহ খরচ মিলিয়ে আরও ৩৫ হাজার টাকা—মোট ৬৫ হাজার টাকা। গত বছর এ খরচে লাভ হয়েছিল, কিন্তু এবার দু’বার চাষ করেও ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে।
কৃষকরা জানান, প্রথমবার আবহাওয়াকে দায়ী করলেও দ্বিতীয়বার জর্ডানি ডিএপি সারকে কারণ মনে করছেন। সার প্রয়োগের পর শশার গাছ পোড়া চেহারা নিয়েছে, যেখানে সার ছাড়া আইলে গাছ স্বাভাবিক।
কৃষক মো. সন্দেশ (মদন ডাঙ্গা), মো. আনোয়ার (আটগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া), মো. জনাব আলী (আটগ্রাম ডাঙ্গাপাড়া)সহ অনেকে বলেন, “সারের গুণগত মান একরকম না থাকায় ফসলের বৃদ্ধি কমে, শিকড় ব্যাহত হয়, মাটির অম্লতা বাড়ে এবং গাছ পুষ্টি পায় না। সার সংকটে বেশি দাম দিয়ে কিনেও ফসল উৎপাদন করতে পারিনি। অনেকের সব শেষ হয়ে গেছে।”
এই ঘটনা দেশের সার্বিক কৃষি ব্যবস্থাপনার ধ্বংসের চিত্র তুলে ধরছে। গ্যাস সংকটে দেশীয় সার উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় আমদানির ওপর নির্ভরতা বেড়েছে, কিন্তু আমদানি সারের মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। সময়মতো কীটনাশক ও অন্যান্য উপকরণ না পাওয়ায় কৃষি পণ্যের বাজারমূল্য চড়া, তার ওপর নিম্নমানের সারে ফসলহীনতা কৃষকদের নিঃস্ব করছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এভাবে চললে খাদ্য নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে এবং দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা বাড়বে। কৃষি বিশেষজ্ঞরা দাবি করেছেন, আমদানি সারের গুণগত মান যাচাই এবং দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। অন্যথায় কৃষি অর্থনীতির মেরুদণ্ড ভেঙে পড়ার শঙ্কা রয়েছে।
Visited 44 times, 1 visit(s) today