বিশেষ প্রতিবেদক
দল থেকে পদত্যাগের পর নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য সমর্থকদের কাছ থেকে সংগৃহীত ৪৭ লাখ টাকা আগে ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিলেও সুর বদলেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেত্রী তাসনিম জারা। এখন আবার বলছেন এই টাকা ফেরত দেবেন না।
দল ছেড়ে ইতিমধ্যে ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেন তাসনিম জারা। নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া হলফনামায় নির্বাচনী ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থপ্রাপ্তির বিবরণীতে উল্লেখ করেন সমর্থকদের কাছ থেকে পেয়েছেন এই অর্থ। যা তিনি খরচ করতে চান নির্বাচনে।
হলফনামায় তাসনিম জারা দাবি করেন, জনসাধারণ থেকে ‘ক্রাউডফান্ডিংয়ের’ মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন তিনি। যার পরিমাণ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
তবে এই অর্থ ফেরত না দেওয়া নিয়ে আক্ষেপ দেখা যায়নি সমর্থকদের মাঝে। অনেকেই বলছেন পুষিয়ে দিলেই তারা খুশি, অর্থ ফেরত দিতে হবে না। পুষিয়ে দেওয়া বলতে কেউ কেউ বুঝিয়েছেন চিকিৎসা সেবা এবং নির্বাচিত হওয়ার পর দুর্নীতি-অনিয়ম ছাড়া এলাকার মানুষের জন্য কাজ করলেই হবে।
প্রসঙ্গত, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যৌন বিষয়ে চিকিৎসা সংক্রান্ত ভিডিও পোস্ট ছাড়াও যৌন চিকিৎসা সংক্রান্ত পরামর্শ ও ওষুধের নির্দেশনা দিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের নজর কাড়তে সমর্থ হয়েছেন ডা. তাসনিম জারা।
দল ছাড়ার আগে গত ২২শে ডিসেম্বর নির্বাচনি তহবিলের জন্য ফেসবুকে এক পোস্টের মাধ্যমে অর্থ অনুদানের আহ্বান জানান তাসনিম জারা। জারার ঘোষণার মাত্র ২৯ ঘণ্টায় মোবাইল ব্যাংকিং ও ব্যাংকের মাধ্যমে ওই টাকা তার অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
যদিও এই অর্থপ্রাপ্তি নিয়ে ইতিমধ্যে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাধ্যমে অনেকের দাবি, এই ক্রাউডফান্ডিং পুরোটাই আইওয়াশ। মূলত গোপন কোনো উৎস থেকে সংগৃহীত অর্থের সমাগমকে বৈধতা দিতেই অনুদানের ‘নাটক’ সাজিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এক্ষত্রে ড. ইউনূসের কর ফাঁকির পদ্ধতি (সকল আয়কে অনুদান হিসেবে দেখানো) অনুসরণ করেছেন জারা, এমন বক্তব্য উঠে এসেছে বিভিন্ন মাধ্যমে।
হলফনামায় নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে তাসনিম জারা তার ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য আয়ের ২৩ লাখ টাকার পাশাপাশি ৩,২০০ ব্রিটিশ পাউন্ডের কথা উল্লেখ করেছেন।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে চিকিৎসক হিসেবে তাসনিম জারার বার্ষিক আয় ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা। এ ছাড়া তিনি বিদেশি আয় হিসেবে ৩,২০০ পাউন্ড (বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৫ লাখ ২৭ হাজার টাকা) ঘোষণা করেছেন। সেই হিসেবে তার মোট বার্ষিক আয় দাঁড়ায় ১২ লাখ ৪০ হাজার ৫৯৭ টাকা। এ ছাড়া জারার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা।
তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অন্যদিকে স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর বার্ষিক বিদেশি আয় দেখানো হয়েছে ৩৯,৮০০ পাউন্ড, যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬৫ লাখ ৫ হাজার টাকা।
তাসনিম জারার নিজের ও স্বামীর সম্মিলিত আয় এবং পারিবারিক স্বচ্ছলতার পরেও কেন অনুদান চাইতে হচ্ছে নির্বাচনের জন্য, এ নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে ইতিমধ্যে।

