বিপিএলে নোয়াখালী এক্সপ্রেসের ডাগআউটে থাকা সহকারী কোচ নিয়াজ খানকে নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। নিজেকে আফগানিস্তানের কোচ পরিচয় দেওয়া নিয়াজকে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড তাকে চিনতেই পারছে না।
বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) মতো টুর্নামেন্টে বিতর্কের যেন শেষ নেই। প্রশ্নবিদ্ধ আয়োজন, পেশাদারিত্বের অভাব, আর্থিক সংকট, খেলোয়াড়দের পারিশ্রমিক নিয়ে টানাপোড়েন নিত্য ব্যাপার। এবার দেখা গেল সন্দেহভাজন কোচ, যাকে নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
নোয়াখালীতে কাজ করা নিয়াজ খান—নাকি নিয়াজ উল ইসলাম? নাম যাই হোক না কেন, এই দাড়িওয়ালা সহকারী কোচ নিজেকে আফগানিস্তান ক্রিকেটের উত্থানের অন্যতম কারিগর হিসেবে দাবি করেন। অথচ আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (এসিবি) জানেই না এই লোক আসলে কে!
বাংলাদেশের একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় উঠে এসেছে বিস্ফোরক তথ্য। নিয়াজ নিজেকে আফগানিস্তানের ট্যালেন্ট হান্ট বা প্রতিভা অন্বেষণের নেপথ্য নায়ক হিসেবে দাবি করেন। তার জীবনবৃত্তান্ত অনুযায়ী, তিনি এশিয়া কাপের সময় দেশটির জাতীয় দলের কোচিং স্টাফের অংশ ছিলেন। তবে ‘ডেইলি সান’-এর অনুসন্ধানে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, তার সবচেয়ে বড় প্রতিভা আসলে নিজেকে ‘বিপণন’ বা ‘মার্কেটিং’ করার ক্ষেত্রে।
নিয়াজ দাবি করেন, “আমি জানি বিল্লাল সামি [নোয়াখালী এক্সপ্রেসের পেসার] কীভাবে ক্রিকেটে এসেছে। এটা বেশ নাটকীয় ছিল। ২০১৯-২০ সালে আমরা পুরো আফগানিস্তানে ফাস্ট বোলার খুঁজছিলাম। আমি সেই কোচিং স্টাফের অংশ ছিলাম। আমরা ট্রায়াল নিয়ে ১৪০ কিমি গতিতে বল করা বোলারদের বেছে নিয়েছিলাম।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি আফগানিস্তানের সব খেলোয়াড়ের সঙ্গে কাজ করেছি এবং এমনকি এশিয়া কাপেও আমি জাতীয় কোচিং স্টাফের অংশ ছিলাম।” কাবুলের একটি ক্রিকেট একাডেমিতে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তিনি উল্লেখ করেন।
তবে আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্মকর্তা সাফ জানিয়ে দেন, “সে আফগানিস্তান ম্যানেজমেন্টের কেউ নয়। সে দুবাই-ভিত্তিক একজন এসএন্ডসি (স্ট্রেন্থ অ্যান্ড কন্ডিশনিং) কোচ যে পশতু ভাষায় কথা বলতে পারে। সে এমনকি পাকিস্তানিও হতে পারে।”
আফগান ক্রিকেটের একজন অভিজ্ঞ কোচও নিয়াজের হাই-পারফরম্যান্স (এইচপিসি) ক্যাম্প পরিচালনার দাবিতে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “সে কখনোই কোনো এইচপিসি ক্যাম্প বা ট্যালেন্ট হান্টে কাজ করেনি। সে একটি ব্যক্তিগত একাডেমিতে কাজ করত, তারপর শারজাহতে চলে যায়। সেখানে এখন তার একটি ব্যক্তিগত একাডেমি এবং স্পোর্টস সামগ্রীর দোকান আছে।”
জানা গেছে নিয়াজকে বিপিএলে নিয়ে এসেছেন খালেদ মাহমুদ সুজন, আগেও তিনি তাকে এনেছিলেন অন্য ভূমিকায়। দুবাইতে মূলত নিয়াজের একটি স্পোর্টস সামগ্রির দোকান রয়েছে। এতে কিছু ক্রিকেটারের আনাগোনা আছে। সেই সূত্রে তিনি কোনভাবে ঢুকে গেছেন বিপিএলে। কোচিং অভিজ্ঞতা বা দক্ষতা না থাকার পরও তার এমন পদে ঢুকে যাওয়ায় সন্দেহজনক মনে করছেন খোদ বিসিবির সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য ইতোমধ্যে বিতর্কের শীর্ষে আছে বিপিএল।
