নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫: বাংলাদেশের টেক্সটাইল খাতে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে ভারত থেকে সুতা আমদানির রেকর্ড বৃদ্ধি। চলতি বছরের এপ্রিল-অক্টোবর সময়ে ভারত থেকে সুতা আমদানি বেড়েছে ১৩৭ শতাংশ, যার মূল্যমান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এতে স্থানীয় স্পিনিং মিলগুলো চরম সংকটে পড়েছে, এবং অন্তত ৫০টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে বলে দাবি করেছে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ)।
বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল জানান, ভারতীয় ব্যবসায়ীরা প্রতি কেজি সুতায় ০.৩০ ডলারেরও বেশি কম দামে সরবরাহ’ করছেন, যা দেশীয় উৎপাদনকে অসম প্রতিযোগিতায় ফেলেছে। ফলে স্থানীয় মিলগুলোতে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকার সুতা অবিক্রিত পড়ে আছে।
তিনি এটিকে ‘অর্থনৈতিক আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের এপ্রিল মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) স্থলপথে (বেনাপোল, ভোমরা, সোনামসজিদসহ অন্যান্য বন্দর দিয়ে) ভারত থেকে সুতা আমদানি নিষিদ্ধ করেছিল। এর উদ্দেশ্য ছিল স্থানীয় টেক্সটাইল শিল্পকে সুরক্ষা দেওয়া এবং সস্তা ভারতীয় সুতার প্রভাব কমানো। কিন্তু এ নিষেধাজ্ঞা শুধু স্থলপথের জন্য প্রযোজ্য ছিল—সমুদ্রপথে আমদানি চালু ছিল। ফলে গার্মেন্টস খাতের চাহিদা এবং কম দামের লোভে সমুদ্রপথে আমদানি বেড়ে যায়, যা সামগ্রিক বৃদ্ধির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিটিএমএ নেতারা জানান, বাংলাদেশ এখন ভারতীয় সুতা রপ্তানির সবচেয়ে বড় গন্তব্য—ভারতের মোট সুতা রপ্তানির ৪৪ শতাংশ আসে এদেশে। তাঁরা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছেন: স্থানীয় সুতা ব্যবহারকারী গার্মেন্টস রপ্তানিতে অন্তত ১০ শতাংশ নগদ প্রণোদনা, রপ্তানি উন্নয়ন তহবিলে স্বল্প সুদে ঋণ এবং ব্যাংক ঋণের সুদহার কমানো।
অন্যদিকে, গার্মেন্টস মালিকদের সংগঠনগুলো (যেমন বিজিএমইএ এবং বিকেএমইএ) বলছেন, ভারতীয় সুতা সস্তা এবং দ্রুত সরবরাহ করা যায়, যা রপ্তানি প্রতিযোগিতায় সহায়ক। তবে দীর্ঘমেয়াদে অতিনির্ভরতা ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এই পরিস্থিতি বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্পর্কের উত্তেজনাকেও প্রতিফলিত করছে, যা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে আরও বেড়েছে। স্থানীয় শিল্প সুরক্ষা এবং রপ্তানি চাহিদার মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা এখন সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ।
