সংবাদ প্রতিবেদন
একাত্তরের ঘাতক ও পাকিস্তানি হানাদারদের দোসর জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে যারা অস্বীকার করেছে, তাদের ওপর আস্থা রাখার কোনো কারণ নেই।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে যারা দেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছিল, সেই স্বাধীনতাবিরোধী শক্তিই আবার নতুন রূপে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তারা এখন ভোল পাল্টে এমনভাবে উপস্থাপন করছে যেন তারাই একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারবে, কিন্তু দেশের মানুষ তা বিশ্বাস করে না।
আজ ১৪ই ডিসেম্বর, রোববার রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্সে শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, বহু ত্যাগ ও রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এই স্বাধীন ভূখণ্ড কোন পথে যাবে—স্বাধীনতার আদর্শে, না কি যারা একসময় স্বাধীনতাকে নস্যাৎ করতে চেয়েছিল তাদের পথে—আজ সেই প্রশ্ন সামনে এসেছে। কারণ স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি আবার ধর্মের নামে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে, যেমনটি তারা ১৯৭১ সালেও করেছিল।
তিনি আরও বলেন, যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতাকে অস্বীকার করেছে, তাদের বিশ্বাস করার কোনো যুক্তি নেই।
ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, এই শক্তি ১৯৪৭ সালে পাকিস্তান আন্দোলনের বিরোধিতা করেছে এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিরোধিতা করেছে। অথচ আজ তারাই নতুন চেহারায় সামনে এসে দেশ গড়ার কথা বলছে, যা জনগণ গ্রহণ করবে না।
শহিদ বুদ্ধিজীবী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের সহযোগীরা পরিকল্পিতভাবে দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করেছিল, যাতে ভবিষ্যতের বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করা যায়। তবে সেই ষড়যন্ত্র সফল হয়নি এবং দুই দিনের মধ্যেই পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। তিনি বলেন, ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নয়, বরং সত্য ও সংগ্রামের পথেই সফলতা আসে।
দেশ এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কোনো ষড়যন্ত্র বা চক্রান্তের কাছে মাথানত না করে জনগণের ঐক্যের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক ও উদার বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে মাথাচাড়া দিতে দেওয়া যাবে না। যারা দেশকে পেছনের দিকে ঠেলে দিতে চায়, তাদের প্রতিহত করতে হবে। জোর করে কোনো আদর্শ চাপিয়ে দেওয়া এ দেশের মানুষ কখনো মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত। এতে বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিএনপির নির্বাহী কমিটির মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক লে. কর্নেল (অব.) জয়নুল আবেদীনসহ অন্যান্য নেতারা বক্তব্য দেন।
