নিজস্ব প্রতিবেদক
রাজধানীর ডেমরার মিনি কক্সবাজার রোডের ধার্মিকপাড়া এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের ময়লা বহনকারী গাড়িচাপায় দুটি পৃথক বিশ্ববিদ্যালয় দুজন শিক্ষার্থী নিহত হয়েছেন। নিহত দুই শিক্ষার্থীই চব্বিশের জুলাই বিক্ষোভে সক্রিয় ছিলেন বলে নিশ্চিত করেন তাদের সহপাঠীরা।
আজ ১২ই ডিসেম্বর, শুক্রবার ভোর সোয়া ৪টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন: ইরাম রেদওয়ান এবং অপু আহমেদ। ইরাম আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি-বাংলাদেশের (এআইইউবি) শিক্ষার্থী, আর অপু ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির (ইউআইইউ) অনার্স তৃতীয় বর্ষে পড়তেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিহতরা একটা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে ফিরছিলেন, তারা নেশাগ্রস্ত ছিলেন বলে মনে হয়েছে।
নিহত তাহসিন ডেমরার সানারপাড়া এলাকার বাসিন্দা বাবুলের ছেলে। ইরামের বাড়ি চিটাগং রোড এলাকায় বলে জানা গেছে।
ডেমরা থানার এসআই রুবেল হাওলাদার জানান, সিটি কর্পোরেশনের একটি ময়লার গাড়ির সঙ্গে মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। গুরুতর আহতাবস্থায় দুজনকে সহপাঠীরা দ্রুত ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান। ঘটনার পর ময়লার গাড়িটি জব্দ করেছে পুলিশ, তবে চালক দুর্ঘটনার পরই পালিয়ে যায়। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ঢামেকে নেওয়ার পর চিকিৎসকেরা প্রথমে তাহসিনকে পরীক্ষা করে ভোর ৪টা ৪০ মিনিটে মৃত ঘোষণা করেন। ইরাম হৃদয়ও গুরুতর আহত ছিলেন; চিকিৎসাধীন অবস্থায় ভোর ৫টা ৩৫ মিনিটে তিনি মারা যান। মরদেহ দুটি ঢামেক মর্গে রাখা হয়েছে।
নিহতদের বন্ধুরা জানান, একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান থেকে ফেরার পথে অন্যরা ধার্মিকপাড়ার একটা টং দোকানে চা খাচ্ছিলেন। তখন তাহসিন ও ইরাম একটি মোটরসাইকেল নিয়ে ঘুরতে বের হন। একটু পর বিকট শব্দ শুনে তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেন ময়লার গাড়ির নিচে মোটরসাইকেল চাপা পড়েছে এবং দুজনই সড়কে ছিটকে পড়ে আছেন। তখন তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।
তাওসিফ নামে তাদের এক বন্ধুর দাবি, সিটি কর্পোরেশনের ময়লার গাড়ির অনেক চালক নেশাগ্রস্ত অবস্থায় গভীর রাতে বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান এবং নিয়মনীতি মানেন না।
