২০২৬ বিশ্বকাপের ড্রয়ে এক অপ্রত্যাশিত ও বিস্ফোরক পরিস্থিতির জন্ম হয়েছে। সিয়াটলের লুমেন ফিল্ডে ২৬ জুন নির্ধারিত “এলজিবিটিকিউ+ প্রাইড ম্যাচ”-এ ইরান ও মিশরকে মুখোমুখি করা হয়েছিল—যা স্থানীয় আয়োজক কমিটি বহু আগেই প্রতীকী অন্তর্ভুক্তির অংশ হিসেবে নির্ধারণ করেছিল। কিন্তু সমকামিতা যেখানে আইনত দণ্ডনীয়, সেই দুই দেশই প্রকাশ্যে জানিয়েছে যে তারা এমন কোনও ইভেন্টে অংশ নেবে না যা এলজিবিটিকিউ+ আন্দোলনের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে নতুন সংকটে পড়েছে ফিফা।
ম্যাচের তারিখটি সিয়াটল প্রাইড উইকেন্ডের শুরুর দিন হওয়ায় আয়োজকদের কাছে এটি ছিল একটি বিশেষ বার্তা দেওয়ার সুযোগ। ড্রয়ের ফলে কোন দল খেলবে তা নির্ধারিত হয়েছিল কেবল ভাগ্যক্রমে, দলের পরিচয় এ ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক ছিল না।
ইরানের ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মাহদি তাজ রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে বলেন, “আমরা এবং মিশর দু’জনেই প্রতিবাদ জানিয়েছি। এটি একটি অবাস্তব সিদ্ধান্ত, যা মনে হচ্ছে একটি বিশেষ গোষ্ঠীকে সমর্থন করার প্রচেষ্টা। আমরা অবশ্যই এই বিষয়টি নিয়ে পদক্ষেপ নেব।” দুই দেশের অবস্থান স্পষ্ট—তাদের নিজস্ব আইন ও সামাজিক অবস্থানের কারণে এমন ম্যাচে অংশগ্রহণ করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
কূটনৈতিক চাপ থাকা সত্ত্বেও ফিফার বাইরে পরিচালিত সিয়াটল প্রাইড ম্যাচ অ্যাডভাইজরি কমিটি (PMAC) জানিয়েছে যে তারা পরিকল্পনা অনুযায়ী অনুষ্ঠান চালিয়ে যাবে। সিয়াটলের মেয়র কেটি উইলসনও শহরের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, “জুনটিন্থ ও প্রাইড উপলক্ষে আয়োজিত ম্যাচের মাধ্যমে আমরা বিশ্বকে দেখাতে চাই—সিয়াটলে সবাইকে স্বাগত।”
এদিকে ফিফা এখনো কোনও আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেয়নি। বিশ্বকাপে এলজিবিটিকিউ+ বিষয়ক সাম্প্রতিকতম বিতর্ক দেখা গিয়েছিল কাতার ২০২২-এ, যখন “ওয়ানলাভ” আর্মব্যান্ড পরলে খেলোয়াড়দের শাস্তির হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছিল, এবং ইংল্যান্ড-ওয়েলসসহ একাধিক দল শেষ পর্যন্ত পিছু হটে।
ইরান ও মিশর বিশ্বকাপের গ্রুপ জি-তে বেলজিয়াম ও নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে রয়েছে। কিন্তু মাঠের লড়াই ছাড়িয়ে এখন দৃষ্টি নিবদ্ধ রয়েছে ফিফা কীভাবে এই জটিল পরিস্থিতি সামাল দেয়—যেখানে আন্তর্জাতিক রাজনীতি, মানবাধিকার ও পূর্বনির্ধারিত সূচি একসঙ্গে জড়িয়ে গেছে। ২৬ জুনের ম্যাচটি ইতোমধ্যেই পুরো বিশ্বকাপের সবচেয়ে বিতর্কিত ম্যাচগুলোর একটি হিসেবে চিহ্নিত হচ্ছে।
