চুরি বলার তো উপায় নেই, একে বলতে হয় রীতিমতো ডাকাতি। পূর্বাচলে নতুন স্টেডিয়ামের পিচ বানানোর জন্য নিয়ে বিসিবির ৩০ কোটি টাকা মূল্যের মাটি রাতের আঁধারে গায়েব হয়ে গেছে। বেনামি প্রতিষ্ঠানকে ঠিকাদারি দিয়ে এই কেলেঙ্কারির পেছনে বিসিবি বর্তমান প্রশাসনের ব্যক্তিরাই আছেন জড়িত।
আওয়ামী লীগ সরকারের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ক্রিকেটের জন্য বিশেষ ভেন্যু বানাতে পূর্বাচলে জমির ব্যবস্থা করে দিয়েছিলেন বিসিবিকে। সেই জমিতে নৌকা আকৃতির ডিজাইনের শেখ হাসিনা স্টেডিয়ামের কাজ শুরু করেছিলো বিগত নাজমুল হোসেন পাপনের বোর্ড। কিন্তু আওয়ামী লীগের পতনের পর সব বদলে যায়, ডিজাইন বদল, নাম বদল করার পর কাজও থেমে আছে। এরমধ্যেই লোপাট প্রায় ৩০ কোটি টাকার মাটি।
আধুনিক স্টেডিয়ামের পিচ বানাতে উন্নত মানের মাটি আনতে উইন্ডস্টার রিসোর্সেস নামক প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেয় আমিনুল ইসলাম বুলবুলের বোর্ড। তারা ২০ হাজার সিএফটি মাটি আনতে বরাদ্ধ দেয় ৩৭ লাখ টাকা। প্রতি সিএফটির মূল্য ধরা হয় ১৮৫ টাকা করে। পথে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় মাত্র ৯০ টাকা সিএফটি ধরে আনা হয়েছে নিম্নমানের মাটি। যা দিয়ে কাজ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন বিসিবির প্রধান কিউরেটর টনি হেমিং।
অর্থাৎ ৩৭ লাখ টাকার বিল তুলে মাত্র ৬ থেকে ৭ লাখ টাকা দিয়ে আনা হয়েছে মাটি। সেই মাটিও পূর্বাচলে গিয়ে খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এই দায়িত্বে কাগজে সই করেছেন বিসিবির কিউরেটর বদিউল আলম খোকন। কিন্তু তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি তো ওখানে রাতে থাকি না। আমি মাটি বুঝে নেই না। মাটি আসার কথা শুনে আমি সাইন করে দিয়েছে। এইটুকুই। কেমন মাটি এলো সেটা দেখার জন্য সিকিউরিটি আছে।’
এদিকে উত্তরায় উইন্ডস্টার রেসোর্সের অফিসে গিয়ে দেখা মেলে অফিসটিতে দায়িত্বশীল কেউই নেই। কেন এই কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হলো তার উত্তর মেলেনি। বিসিবির ক্রয় কমিটির চেয়ারম্যান আবুল বাশার ও ভাইস চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান এই ব্যাপারে কোন মন্তব্য করতে রাজী না।
ঢাকা শহরের আশেপাশে মাঠ সংকট নিরসরে আওয়ামী লীগ সরকার পূর্বাচল স্টেডিয়াম ও স্পোর্টস হাব বানানোর উদ্যোগ নেয়। বর্তমানে সেখানকার প্রায় সব কার্যক্রমই স্থবির। এরমধ্যে লুটপাট চলতে থাকায় পূর্বাচল স্টেডিয়ামের আগামী নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়।
