উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে আজ রাতে এক মহারণ অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। টানা দুইবারের চ্যাম্পিয়ন পিএসজি নিজেদের মাঠে আতিথ্য দেবে এ মুহূর্তে উড়তে থাকা বার্সেলোনাকে।
২০২৬-২৭ মৌসুমে ইউরোপিয়ান প্রতিযোগিতায় দুই দলই এখন পর্যন্ত দুর্দান্ত পারফর্ম করছে। লুইস এনরিকের পিএসজি আগের ম্যাচে স্লোভান ব্রাতিসলাভা ও ম্যানচেস্টার সিটিকে হারিয়েছে। অন্যদিকে হান্সি ফ্লিকের অধীনে থাকা বার্সেলোনা গুঁড়িয়ে দিয়েছে গালাতাসারাই ও ফেইনুর্দকে।
লিগ ওয়ানে শুরুর তিন ম্যাচে জয়হীন থাকার পর সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ছয় ম্যাচ জিতে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে প্যারিসের ক্লাবটি। এই ছয় ম্যাচে তারা ১৯টি গোল করলেও এনরিকের রক্ষণভাগের দুর্বলতা কিছুটা চিন্তার কারণ। চলতি মৌসুমে ১০ ম্যাচের মধ্যে তারা ক্লিন শিট রাখতে পেরেছে মাত্র একটিতে, আর শেষ চার ম্যাচেই গোল হজম করেছে তারা।
পিএসজির এই ভঙ্গুর রক্ষণের সামনে আজ দাঁড়াচ্ছে ইউরোপের সবচেয়ে বিধ্বংসী আক্রমণভাগ। চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ১১টি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে বার্সেলোনা। এই সময়ে তারা প্রতি ম্যাচে গড়ে ৪.৪টি গোলসহ মোট ৪৮টি গোল করেছে, যা ইউরোপের সেরা পাঁচ লিগের দলের মধ্যে সর্বোচ্চ।
দলীয় খবর
টানা তিনবার শিরোপা জয়ের স্বপ্নে ধাক্কা খেয়েছে পিএসজি। উরুর চোটে পড়ে কয়েক সপ্তাহের জন্য মাঠের বাইরে ছিটকে গেছেন নুনো মেন্দেস। তবে সপ্তাহান্তে বিশ্রামে থাকা অধিনায়ক মার্কিনিয়োসসহ উইলিয়ান পাচাও, ভিতিনিয়া, ফাবিয়ান রুইজ, আশরাফ হাকিমি, উসমান দেম্বেলে ও দেজিরে দুয়েকে শুরুর একাদশে ফেরাতে পারেন কোচ এনরিকে।
অন্যদিকে রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে ম্যাচে চোটে পড়ে ছিটকে গেছেন বার্সার জুলস কুন্দে ও এরিক গার্সিয়া। তবে শঙ্কা কাটিয়ে স্কোয়াডে যোগ দিয়েছেন জেরার্ড মার্তিন ও গ্যাব্রিয়েল জেসুস। অবশ্য হাঁটুর পেশির সমস্যা কাটিয়ে ওঠা রফিনা গত শনিবারই মাঠে ফিরেছেন। ১৪ গোল করা এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডকে আজ শুরু থেকেই খেলাতে পারেন হান্সি ফ্লিক।
উল্লেখযোগ্য তথ্য
* প্রধান কোনো ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় এটি পিএসজি ও বার্সেলোনার ১৭তম মুখোমুখি সাক্ষাৎ। বায়ার্ন মিউনিখের পাশাপাশি বার্সাই ইউরোপের মঞ্চে পিএসজির সবচেয়ে চেনা প্রতিপক্ষ। মুখোমুখি লড়াইয়ে পিএসজির জয় ৬টিতে, বার্সেলোনার ৬টিতে এবং ড্র হয়েছে ৪টি ম্যাচ।
* বার্সেলোনার বিপক্ষে শেষ দুটি ম্যাচেই জিতেছে পিএসজি। সর্বশেষ ২০২৫-২৬ চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ পর্বে ক্যাম্প ন্যু-তে ২-১ ব্যবধানে জিতেছিল তারা।
* ২০২৪-২৫ মৌসুমের শুরুতে হান্সি ফ্লিক বার্সেলোনার দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচগুলোতে মোট ১৩০টি গোল হয়েছে। কেবল পিএসজির ম্যাচেই এর চেয়ে বেশি (১৩৪টি) গোল দেখা গেছে।
* ইউরোপিয়ান কাপ/চ্যাম্পিয়নস লিগে অন্তত ১০টি ম্যাচ খেলা দ্বৈরথগুলোর মধ্যে কেবল আয়াক্স-বায়ার্ন মিউনিখ (৩.৯) ম্যাচের গড় গোলের হার পিএসজি-বার্সেলোনার (৩.৮; ১৫ ম্যাচে ৫৭ গোল) চেয়ে বেশি।
* চ্যাম্পিয়নস লিগে টানা ১২ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে পিএসজি, যা তাদের ক্লাব রেকর্ড ছোঁয়া থেকে মাত্র এক ম্যাচ দূরে।
* চলতি মৌসুমে সবকটি (১১টি) ম্যাচে জয়ী বার্সেলোনা গোল করেছে ৪৮টি (ম্যাচে গড়ে ৪.৪টি)। ফেইনুর্দের বিরুদ্ধে পাঁচটি ও গালাতাসারাইয়ের বিরুদ্ধে চারটি গোলের পর চ্যাম্পিয়নস লিগের লিগ/গ্রুপ পর্বে টানা চার ম্যাচে অন্তত চারটি করে গোল করার রেকর্ড গড়েছে তারা।
* বার্সেলোনার হয়ে অন্তত ৫টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে দায়িত্ব পালন করা কোচদের মধ্যে ফ্লিকের গড় গোল (৩.০) ও গড় হজম করা গোল (১.৬) সবচেয়ে বেশি।
* ২০২৬-২৭ চ্যাম্পিয়নস লিগে ২ ম্যাচে ৫টি গোলে সরাসরি অবদান রয়েছে লামিনে ইয়ামালের (১টি গোল, ৪টি অ্যাসিস্ট)। দুটি ম্যাচেই তিনি দুটি করে অ্যাসিস্ট করেছেন।
* পিএসজির হয়ে ৪২টি চ্যাম্পিয়নস লিগ ম্যাচে উসমান দেম্বেলের অবদান ৩৩টি গোলে (২১টি গোল, ১২টি অ্যাসিস্ট)।
