টানা চার মাস ধরে রপ্তানি খাতের পতন অব্যাহত

টানা চার মাস ধরে রপ্তানি খাতের পতন অব্যাহত
শেয়ার করুন

 

বিশেষ প্রতিবেদক

রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়লেও পণ্য রপ্তানিতে পতনের ধারা থামছে না। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সর্বশেষ তথ্যে দেখা যাচ্ছে, চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের নভেম্বরে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩৮৯ কোটি ১৫ লাখ ডলার, যা গত বছরের একই মাসের তুলনায় ৫.৫৪ শতাংশ কম। সংখ্যার হিসেবে এই কমতি ২২ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

এ ধাক্কা নতুন নয়। আগস্ট থেকে শুরু হওয়া নিম্নগতি নভেম্বরেও অব্যাহত থেকেছে—এ নিয়ে চার মাস ধরে রপ্তানি আয় কমছে। জুলাইয়ে শক্তিশালী সূচনার পর যে ধারাবাহিক গতি তৈরি হয়েছিল, আগস্টেই তা থেমে যায়। ওই মাসে প্রবৃদ্ধি নেমে আসে ২.৯৩ শতাংশে। সেপ্টেম্বরে পতন আরও বেড়ে হয় ৪.৬১ শতাংশ, আর অক্টোবরে দাঁড়ায় ৭.৪৩ শতাংশে।

জুলাই ছিল উল্লেখযোগ্য ব্যতিক্রম—সেই মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছিল ৪৭৭ কোটি ৫ লাখ ডলারে, প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৪.৯০ শতাংশ। কিন্তু এরপর টানা চার মাস ধরে রপ্তানি আয় কমতেই থেকেছে, যার স্পষ্ট প্রতিফলন দেখা গেছে নভেম্বরে।

সার্বিক চিত্র বলে, অর্থবছরের শুরুতে যে জোয়ার দেখা গিয়েছিল, তা এখন টানা চার মাসের ভাটায় পরিণত হয়েছে।

জুলাই থেকে নভেম্বর—মোট পাঁচ মাসে রপ্তানি আয় দাঁড়িয়েছে ২০০২ কোটি ৮৫ লাখ ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রবৃদ্ধি মাত্র ০.৬২ শতাংশ—অর্থাৎ মোট প্রবাহও প্রায় স্থবির।

নভেম্বরের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে পোশাক খাতে, যা দেশের রপ্তানির মূলভিত্তি। ওই মাসে পোশাক রপ্তানি এসেছে ৩১৪ কোটি ৯ লাখ ডলার—গত বছরের তুলনায় ৫ শতাংশ কম। নিটওয়্যার খাতে আয় দাঁড়িয়েছে ১৬১ কোটি ৮৪ লাখ ডলারে এবং ওভেন খাতে ১৫২ কোটি ২৪ লাখ ডলার। গত বছর একই সময়ে দুটি খাতে আয় ছিল যথাক্রমে ১৭৩ কোটি ৮২ লাখ ও ১৫৬ কোটি ৯২ লাখ ডলার।

পোশাকের বাইরে কৃষিপণ্যে রপ্তানি কমেছে ২৪.৬৮ শতাংশ এবং প্লাস্টিক পণ্যে কমেছে ১৫.৪৯ শতাংশ। এছাড়া চামড়া, পাটজাত সামগ্রী, হোম টেক্সটাইল, ওষুধ, জাহাজ, চিংড়ি ও লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং—সব খাতেই মন্থরতার ছাপ স্পষ্ট।

তবে সব বাজারে একই অবস্থা নয়। কয়েকটি গন্তব্যে উল্টো প্রবৃদ্ধি দেখা গেছে, যা সামগ্রিক মন্দার মধ্যেও আশার সঞ্চার করেছে। যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি বেড়েছে ৪.২০ শতাংশ, যুক্তরাজ্যে ৩.০৪ শতাংশ। উদীয়মান বাজারগুলোর মধ্যে চীনে রপ্তানি বেড়েছে ২৩.৮৩ শতাংশ, পোল্যান্ডে ১১.৫৭ শতাংশ, সৌদি আরবে ১১.৩৪ শতাংশ এবং স্পেনে ১০.৪৬ শতাংশ—যা সাম্প্রতিক প্রবণতায় একধরনের ইতিবাচক ব্যতিক্রম।

সব মিলিয়ে পরিস্থিতি দ্বিমুখী—একদিকে প্রধান ঐতিহ্যগত খাতগুলোতে পতন, অন্যদিকে কিছু নতুন বাজারে উর্ধ্বগতি। তবে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে—এই নতুন বাজারের বৃদ্ধি কি পোশাকসহ বড় খাতগুলোর ধারাবাহিক মন্দা কাটাতে যথেষ্ট হবে?

বর্তমান বাস্তবতা ইঙ্গিত করে, রপ্তানি বৈচিত্র্য বাড়ানোর পথে আরও দূর যেতে হবে। উৎপাদন ব্যয়, মূল্য প্রতিযোগিতা, বৈদেশিক অর্ডার সংকোচন এবং বিশ্ববাজারের অনিশ্চয়তা—সব মিলিয়ে রপ্তানি খাতের সামনে সহজ পথ নেই।

Visited 23 times, 1 visit(s) today