পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন, তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রায় সম্পূর্ণ একাকী অবস্থায় থাকার কারণে মানসিকভাবে চাপে আছেন বলে জানিয়েছেন তার বোন উজমা খানুম। কয়েক সপ্তাহ পর প্রথমবারের মতো ভাইয়ের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাওয়ার পর মঙ্গলবার রাওয়ালপিন্ডিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তিনি। ইমরান খানকে বর্তমানে আদিয়ালা কারাগারে রাখা হয়েছে।
উজমা খানুম, যিনি পেশায় চিকিৎসক, বলেন, “তিনি শারীরিকভাবে ভালো আছেন। কিন্তু তাকে সারাক্ষণ ঘরের ভেতরে রাখা হয় এবং খুব অল্প সময়ের জন্য বাইরে যেতে দেওয়া হয়। কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগের সুযোগ নেই।”
তিনি আরও জানান, বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকতে বাধ্য হওয়ায় ইমরান খান ‘খুবই ক্ষুব্ধ’, এবং একে তিনি “মানসিক নির্যাতন, যা শারীরিক যন্ত্রণার থেকেও খারাপ” বলে বর্ণনা করেছেন। তাদের সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎটি কঠোর নজরদারির মধ্যে অনুষ্ঠিত হয় এবং কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারের অনুমতি ছিল না।
সকালে থেকেই পিটিআই সমর্থকেরা আদিয়ালা কারাগারের বাইরে জড়ো হয়েছিলেন ইমরান খানের অবস্থা সম্পর্কে খবর জানতে। প্রায় এক মাস ধরে পরিবারের কোনো সদস্য বা আইনজীবী তার সঙ্গে দেখা করতে না পারায় পরিবার ও দলের পক্ষ থেকে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হচ্ছিল। গত সপ্তাহে খানের এক ছেলে রয়টার্সকে বলেছিলেন যে তারা আশঙ্কা করছেন, “আমাদের কাছ থেকে হয়তো কোনো গুরুতর বিষয় লুকানো হচ্ছে।”
মঙ্গলবার খানুমের সাক্ষাতের পর ইমরান খানের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি কর্তৃপক্ষকে তার পরিবার ও আইনজীবীদের নিয়মিত সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়ার আহ্বান জানান। পরিবার চাইছে ইমরান খানের ব্যক্তিগত চিকিৎসকও যেন তাকে দেখতে পারেন—যা এক বছরেরও বেশি সময় ধরে সম্ভব হয়নি।
পাকিস্তানের স্বাধীন মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস কমিশন জানিয়েছে, ইমরান খানের কারাজীবন নিয়ে পাওয়া তথ্যগুলো “গভীর উদ্বেগজনক”। তবে পাকিস্তানের কর্তৃপক্ষ বলছে, ইমরান খানকে কোনো ধরনের অমানবিক আচরণ করা হচ্ছে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তালাল চৌধুরী বলেছেন, কারাগারে সাক্ষাতের সিদ্ধান্ত কারা কর্তৃপক্ষের বিষয়, সরকার এতে হস্তক্ষেপ করে না।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। ২০২২ সালে অনাস্থা ভোটে তিনি পদচ্যুত হন। ২০২3 সালের আগস্ট থেকে তিনি কারাবন্দী আছেন। দুর্নীতি ও রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসসহ বিভিন্ন অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল; এর মধ্যে কিছুতে তিনি দণ্ডিত হলেও কিছু অভিযোগে পরবর্তীতে খালাস পেয়েছেন। তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সব মামলাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সত্ত্বেও, পাকিস্তানে ইমরান খান এখনও ব্যাপক জনপ্রিয়। ২০২4 সালের নির্বাচনে তার দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) সর্বোচ্চ ভোট পায়—দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলের চেয়ে ৪.৫ মিলিয়ন বেশি। তবে প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলো মিলে জোট সরকার গঠন করায় পিটিআই ক্ষমতার বাইরে থাকে।
