সম্পাদকীয়
মঙ্গলবার অতন্দ্রানু রিপা প্রকাশ্যে অভিযোগ তুলেছেন—প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসের ঘনিষ্ঠ সহচর এবং ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক আলী রীয়াজ তার বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের মতো গুরুতর অপরাধ করেছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, রীয়াজ নিজের বন্ধ্যাকরণের মিথ্যা দাবি করে গর্ভনিরোধক ছাড়া যৌনসম্পর্ক করেছেন এবং জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটিয়েছেন—যা বাংলাদেশে দণ্ডনীয় অপরাধ।
এ ধরনের অভিযোগ সামনে আসলে স্বচ্ছ তদন্তই হওয়া উচিত ছিল। কিন্তু প্রধান উপদেষ্টা নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে আলী রীয়াজের পক্ষ নিয়ে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন এবং ভুক্তভোগীর বিরুদ্ধেই উল্টো আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন। নেতৃত্বের এমন আচরণ গভীর উদ্বেগের কারণ।
যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠলে নেতার প্রথম দায়িত্ব হলো ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। স্বাধীন ও নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া কোনো মন্তব্য বা পদক্ষেপ ন্যায়বিচারকে বাধাগ্রস্ত করে এবং জনবিশ্বাস নষ্ট করে।
বাংলাদেশে এমন অভিযোগ তুলতেই ভুক্তভোগীদের সামনে বহু বাধা ও সামাজিক চাপ থাকে। তাই রাষ্ট্রের দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের উচিত ভুক্তভোগীর পাশে দাঁড়ানো—অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রক্ষা করা নয়। কেউ ক্ষমতাধর বলেই তাকে দায়মুক্তি দেওয়ার চেষ্টা করা এক ভয়াবহ বার্তা দেয়: আনুগত্য নাকি নৈতিকতাকে টপকে যায়, ক্ষমতা নাকি সত্যের ওপর প্রাধান্য পায়।
এখন প্রধান উপদেষ্টা এবং অন্তর্বর্তী সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে। তারা হয় অভিযোগটিকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে বিচার প্রক্রিয়া শুরু করতে পারেন; নয়তো নেতৃত্ব ও ন্যায়বিচার—উভয়ের প্রতি জনগণের আস্থা হারানোর ঝুঁকি নেবেন।
যৌন নিপীড়নের ঘটনায় সামান্য দ্বিধাও আসলে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। সঠিক পথ একটাই—নিরপেক্ষ তদন্ত, ভুক্তভোগীর সুরক্ষা, এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা। এর কম কিছু গ্রহণযোগ্য নয়—এটি ন্যায় ও নেতৃত্ব—দুয়েরই প্রতি অবমাননা।
সম্পাদকমণ্ডলী
