নিজস্ব প্রতিবেদক
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঘোষিত দেশব্যাপী ‘লকডাউন কর্মসূচি’ ঘিরে সারাদেশে টানটান উত্তেজনা বিরাজ করছে। বুধবার সকাল থেকেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলার সড়ক ফাঁকা, যানবাহনের সংখ্যা সীমিত, বাজার-ঘাটে মানুষের উপস্থিতিও কমে গেছে। সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলোতে উপস্থিতিও স্বাভাবিকের চেয়ে কম।
একদিকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ সতর্কতা, অন্যদিকে জনমনে প্রশ্ন—একটি রাজনৈতিক দলের কর্মসূচি ঘিরে এমন পরিস্থিতি কেন? এটা কি নতুন গণতন্ত্র?
এর মধ্যে মাঠ পর্যায়ের পুলিশ সদস্যরা বলছেন, আওয়ামী লীগের এই কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাদের নেই, বরং সক্ষমতাও সীমিত। তারা মনে করেন, দেশের সবচেয়ে সংগঠিত রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের আন্দোলন থামানো বাস্তবে প্রায় অসম্ভব।
এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডি ডাইজেস্টকে বলেন, “রাজনৈতিক কর্মসূচি করতে পারে সবাই। আওয়ামী লীগ যদি মাঠে নামে, সেটা ঠেকানো কোনো বাহিনীর পক্ষেই সম্ভব না। আমরা আইনশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্বে আছি, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ নয়।
আরেক কর্মকর্তা বলেন,
“বাধা দেওয়ার কোনো নির্দেশ নেই। আমাদের কাজ হলো নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—সংঘাত এড়ানো। কিন্তু আওয়ামী লীগের মতো দলের কর্মসূচি ঠেকানোর চেষ্টা মানেই সংঘর্ষ ডেকে আনা, সেটা কেউ চায় না।”
সাধারণ জনগণ বলছে,অবৈধ ইউনুস সরকার শুরু থেকেই আওয়ামী লীগকে কোণঠাসা করতে চেয়েছে। এমন অবস্থায় গত এক বছরে চরম পর্যায়ে পৌঁছেছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে বঙ্গবন্ধু পরিবারের নাম ব্যবহার করে বিরোধী রাজনীতি করা এবং আওয়ামী নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার, মামলা ও হয়রানির অভিযোগে দলটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আন্দোলনের ঘোষণা দেয়।
দলটির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন,
এই সরকার গণতান্ত্রিক পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছে। জনগণের ভোট ছাড়া ক্ষমতায় এসেছে। তাই জনগণের পক্ষেই আমরা লড়ছি।
অন্যদিকে সরকারি শীর্ষমহল দাবি করছে, আওয়ামী লীগের ‘লকডাউন’ কর্মসূচি দেশের স্থিতিশীলতা নষ্টের উদ্দেশ্যে নেয়া হয়েছে। তবে রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা বলছেন, আওয়ামী লীগ এখন এমন এক অবস্থানে যেখানে তাদের যেকোনো কর্মসূচিই সরকারের জন্য বড় চাপ তৈরি করছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার ঢাকার রাস্তাঘাট সকালে থেকেই অস্বাভাবিক রকম ফাঁকা। মিরপুর, ধানমণ্ডি, পল্টন, যাত্রাবাড়ী, উত্তরা—সব এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর টহল চলছে। কোথাও কোথাও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের দলবদ্ধভাবে অবস্থান নিতে দেখা গেছে, যদিও কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অনুযায়ী বড় সমাবেশ হয়নি।
রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট থেকেও অনুরূপ পরিস্থিতির খবর পাওয়া গেছে। পরিবহন শ্রমিকরা জানাচ্ছেন, যাত্রী কম, রাস্তায় আতঙ্কের আবহ। দোকানপাট আংশিক খোলা, তবে ব্যবসায়ীরা বলছেন, “পরিস্থিতি বুঝে খুলেছি, ভয়ও আছে।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন এই কর্মসূচি শুধু সরকারের জন্য নয়, পুরো প্রশাসনের জন্যও পরীক্ষা। যদি আওয়ামী লীগের মাঠে উপস্থিতি দৃশ্যমান হয়, তাহলে দেশের রাজনৈতিক সমীকরণ নতুন মোড় নিতে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই লিখছেন-যারা বলেছিল আওয়ামী লীগ শত বছরেও আর ক্ষমতায় ফিরবে না, তারা এখন দেড় বছরের মাথায় এক কর্মসূচির শক্তি দেখেই ভয় পেয়েছে।
এসব বিষয়ে জানতে বিডিডাইজেস্টের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলমকে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
