নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা, ১১ নভেম্বর ২০২৫: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান গতকাল চট্টগ্রামের এক জনসভায় নারীদের প্রতি দুটি বিতর্কিত প্রতিশ্রুতি দিয়ে বক্তব্য দেন, যা রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে নারীদের ঘরে সীমাবদ্ধ রাখার এবং ধীরে ধীরে শরিয়া আইন প্রয়োগের প্রথম ধাপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আমিরের পূর্ণ বক্তব্যের উদ্ধৃতি (ভিডিও ক্লিপ থেকে সংগৃহীত):
“ইসলাম নারীকে সম্মানের আসনে বসিয়েছে। নারী যদি ঘরে থেকে সংসার সামলান, সন্তান লালন-পালন করেন, তাহলে জামায়াতের সরকার ক্ষমতায় এলে তাদেরকে মাসিক পুরস্কার প্রদান করবে। এটি হবে তাদের অবদানের স্বীকৃতি। আর যদি কোনো নারী একান্ত বাধ্য হয়ে বাইরে কাজ করতে যান—যেমন বিধবা বা অসচ্ছল পরিবারের সদস্যা—তাহলেও তিনি ৫ ঘণ্টা কাজ করলেও ৮ ঘণ্টার পূর্ণ বেতন পাবেন। এটি ইসলামের ন্যায়বিচারের অংশ।”
তিনি আরও বলেন,
“আমরা চাই নারী যেন বাধ্য না হয় রাস্তায় নামতে। ঘরই নারীর জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও সম্মানজনক স্থান।”
এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেটিজেনদের মাঝে ব্যাপক হাস্যরসের জন্ম দিয়েছে। অনেকে এটিকে অবাস্তব এবং হাস্যকর বলে মন্তব্য করেছেন। উল্লেখযোগ্য কিছু প্রতিক্রিয়া
“৫ ঘণ্টায় ৮ ঘণ্টার বেতন? তাহলে পুরুষরা কি ৮ ঘণ্টায় ১২ ঘণ্টার বেতন পাবে? ”
“যাকাত দিয়ে অর্থনীতি চালাবেন, ঘরে থাকলে পুরস্কার দেবেন—জামায়াতের অর্থনীতি মডেলটা কি স্বপ্নের দেশে?”
এর আগে জামায়াতের নায়েবে আমির নিউইয়র্ক সফরকালীন এক সভায় আরেকটি চাঞ্চল্যকর বক্তব্য দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, “মুসলিম উম্মাহ থেকে যাকাত সংগ্রহ করে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবেন।” এই মন্তব্যও সে সময় ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্যগুলো জামায়াতের ধর্মীয় রাজনীতির অংশ, যা নারী অধিকার এবং অর্থনৈতিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ড. আয়েশা সিদ্দিকা বলেন, “এটি শুধু নারীকে ঘরে আটকে রাখার প্রচেষ্টা নয়, বরং শরিয়া-ভিত্তিক রাষ্ট্রের দিকে ধীরে ধীরে অগ্রসর হওয়ার কৌশল।”
