নিজস্ব প্রতিবেদক
কালো মাটির নিম্নমানের উইকেট বানিয়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে নাকানিচুবানি খাওয়াতে চেয়েছিল বাংলাদেশ দল। প্রথম ম্যাচে সেখানে জিতে দাপট দেখালেও দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশকে বাংলাদেশেরই অস্ত্র ঘায়েল করল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
মিরপুরের শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচে রোমাঞ্চকর এক সুপার ওভারে জয় পেয়ে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে সমতা এনেছে ক্যারিবিয়ান দল
শেষ ওভারের শেষ বলটিতে খারি পিয়েরে’র সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন বাংলাদেশের উইকেটকিপার নুরুল হাসান সোহান। সেই সুযোগে এক রান নিয়ে ম্যাচ সমতায় নিয়ে যান বামহাতি এই ব্যাটার। ফলে পুরুষদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো সুপার ওভারে গড়ায় বাংলাদেশ। এটি ছিল তাদের ৮১৩তম ওয়ানডে ম্যাচ।
সুপার ওভারে মুস্তাফিজুর রহমানের করা ওভারে ১০ রান তোলে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তিন বলে অপরাজিত ৭ রান করেন শাই হোপ, আর দুই বলে ৩ রান যোগ করেন শারফেন রাদারফোর্ড। জবাবে আকিল হোসেনের করা ওভারে ৯ রানে থেমে যায় বাংলাদেশের ইনিংস—অল্প ব্যবধানে জিতে নেয় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
সুপার ওভারে দুটি ওয়াইড, একটি নো-বল ও একটি লেগ-বাই পেলেও তা কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। সৌম্য সরকার করেন রান-এ-বল তিন, সাইফ হাসান তিন বলে দুই রান। নাজমুল হোসেন শান্ত বল স্পর্শ করতে না পারলেও এক লেগ-বাই নেন, শেষ বলে জয়ের জন্য প্রয়োজনীয় তিন রান নিতে ব্যর্থ হন সাইফ।
এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক শাই হোপ ৬৭ বলে ৫৩ রানের ইনিংস খেলে দলের ইনিংসকে টেনে নেন। ২১৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল পাঁচ রান। সাইফ হাসান প্রথম দুই বল ডট দেন, এরপর এক রান দেন। এরপর হোপ স্ট্রাইক বদলে দেন, ফলে ট্যুরের প্রথম ম্যাচে খেলতে নামা ১০ নম্বর ব্যাটার আকিল হোসেন (১৭ বলে ১৬) স্ট্রাইকে আসেন। কিন্তু সাইফ পরের বলেই তাকে বোল্ড করে দেন, ফলে শেষ বলে তিন রানের প্রয়োজন হয়।
শেষ বলটি স্কয়ার লেগের দিকে টপ-এজ করে পাঠান পিয়েরে। সামনে এগিয়ে গিয়ে ক্যাচ ধরতে যান সোহান, কিন্তু ধরতে ব্যর্থ হন। দ্রুত বল ফেরাতে না পারায় পিয়েরে ও হোপ দুই রান নিতে সক্ষম হন, যা ম্যাচটিকে নিয়ে যায় সুপার ওভারে।
এই ম্যাচে সৃষ্টি হয় এক বিশ্ব রেকর্ডও—পুরুষদের ওয়ানডে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো পুরো ৫০ ওভার স্পিনে বোলিং করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এর আগে ২০০৪ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে শ্রীলঙ্কা দিয়েছিল ৪৪ ওভার স্পিন। বাংলাদেশ স্পিনাররাও দেন ৪২ ওভার, ফলে পুরো ম্যাচে মোট ৯২ ওভার স্পিন—যা ওয়ানডে ইতিহাসে সর্বাধিক।
প্রথমে ব্যাট করে বাংলাদেশ ৭ উইকেটে ২১৩ রান তোলে। ইনিংসের শেষ দিকে ঝড় তোলেন রিশাদ হোসেন—১৪ বলে অপরাজিত ৩৯ রান, যেখানে ছিল তিনটি ছয় ও তিনটি চার। ৪৭তম ওভারে ৯ নম্বরে নামা রিশাদ মেহেদী হাসান মিরাজকে সঙ্গে নিয়ে ২৪ বলে অপরাজিত ৫০ রানের জুটি গড়ে দলকে ২০০ পেরিয়ে নিয়ে যান। মেহেদী ৫৮ বলে অপরাজিত ৩২ রান করেন, আর সোহান ২৪ বলে ২৩ রানের ইনিংস খেলে ৪৬তম ওভারে আউট হন।
একই ভেন্যুতে প্রথম ওয়ানডেতে বাংলাদেশ জিতেছিল ৭৪ রানে। সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে বৃহস্পতিবার, মিরপুরেই।
