❐ জেলা প্রতিনিধি
কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ম্যাচ শুরু হওয়ার আগেই বিক্ষুব্ধদের হামলা ও ভাঙচুর খেলা পণ্ড হয়ে যায়।
আজ ১২ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার বিকেলে বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন স্টেডিয়ামে টেকনাফ উপজেলা ফুটবল দল ও রামু উপজেলা ফুটবল দলের মধ্যে খেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু টিকিট বিক্রির অনিয়ম নিয়ে দর্শকদের ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায় ঘটনা ঘটে। শুরু হয়ে যায় সংঘবদ্ধ হামলা।
সংঘর্ষে পুলিশসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। এছাড়া স্টেডিয়ামের গ্যালারি, চেয়ারসহ স্থাপনার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, স্টেডিয়ামের আসন সংখ্যার চেয়ে বেশি টিকিট বিক্রি এবং ৫০ টাকার টিকিট ৫০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগে দর্শকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। খেলা শুরুর আগেই কয়েকশ ক্ষুব্ধ দর্শক গ্যালারির বেড়া ভেঙে মাঠে ঢুকে পড়েন।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করলেও দর্শকরা স্টেডিয়ামের বাইরে গিয়ে গ্যালারি থেকে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করে। এতে স্টেডিয়ামের কাচ ভেঙে যায় এবং ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। আহত হন পুলিশ সদস্যরাও।
কক্সবাজার সদর হাসপাতালের সূত্র জানায়, আহতদের মধ্যে সাধারণ দর্শক, পুলিশ সদস্য এবং স্টেডিয়ামের স্টাফ রয়েছে। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তাদের অবস্থা স্থিতিশীল।
পুলিশ সুপার (কক্সবাজার) মোহাম্মদ আল-আমিন খান সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “ঘটনাস্থলে দ্রুত পুলিশ ও র্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং সন্দেহভাজনদের গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। টিকিট বিক্রির অনিয়মের তদন্ত চলছে।”
জেলা প্রশাসক এবং স্থানীয় স্পোর্টস কর্তৃপক্ষ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে বলেছেন, এ ধরনের অনিয়ম স্পোর্টস ইভেন্টের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করে।
বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনও বিবৃতি দিয়ে বলেছে, এমন ঘটনা প্রতিরোধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
দর্শক সংখ্যার চেয়ে বেশি সংখ্যক টিকেট ছেপে বিক্রির এই অনিয়মের সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তারের পাশাপাশি টিকেটের টাকা ফেরত দেওয়ার দাবি জানান দর্শকরা।
স্থানীয় ক্রীড়ানুরাগীরা মনে করছেন, টুর্নামেন্টের আয়োজনকারীদের দায়িত্বশীলতার অভাব এই ঘটনার জন্য দায়ী। এই ঘটনা কক্সবাজারের স্থানীয় স্পোর্টস সম্প্রদায়কে চিন্তিত করেছে এবং ভবিষ্যতের ম্যাচগুলোর জন্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার দাবি উঠেছে।
