❐ ঢাবি প্রতিনিধি
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে ভিপি প্রার্থী জালাল আহমদ জালালকে রুমমেটকে ধারালো ছুরি দিয়ে কোপানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে বুধবার আদালতে পাঠানো হয়।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, মঙ্গলবার গভীর রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হল ও প্রশাসনের সহযোগিতায় জালালকে আটক করা হয়। পরবর্তীতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় তাকে রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ২৬শে আগস্ট, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাজী মুহাম্মদ মুহসীন হলের ৪৬২ নম্বর কক্ষে নিজের রুমমেট রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রবিউল হককে ছুরিকাঘাত করেন জালাল আহমদ। গুরুতর আহত রবিউল বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে চলা বিরোধের জেরেই এ ঘটনা ঘটে।
তারা বলেন, ঘটনার রাতে জালাল কক্ষে এসে শব্দ করছিলেন। এতে ঘুম ভাঙায় রবিউল প্রতিবাদ করলে দু’জনের মধ্যে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে জালাল ছুরি দিয়ে রবিউলকে আঘাত করেন।
চিকিৎসাধীন রবিউল হক সাংবাদিকদের বলেন, “আমি ঘুম থেকে উঠে বলি, সকালে লাইব্রেরিতে যেতে হবে, তাই শব্দ করলে ঘুমে সমস্যা হচ্ছে। তখন জালাল আমাকে অবৈধ ও বহিরাগত বলে গালি দেয়। প্রতিবাদ করলে হঠাৎ সে আমাকে আঘাত করে। কোনোভাবে আত্মরক্ষা করে বেঁচে যাই।”
ঘটনার পরপরই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জালালকে পুলিশে সোপর্দ করে।
হল প্রাধ্যক্ষ ড. মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এ ধরনের নৃশংস কাজের জন্য তাকে হল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তার ছাত্রত্ব বাতিলের উদ্যোগও নেওয়া হবে।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, “আসন্ন ডাকসু নির্বাচনে এ ঘটনার প্রভাব পড়বে না। তবে জালাল আহমদের বিরুদ্ধে পূর্বেও অভিযোগ ছিল। এবার সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখা হবে।”
এ ঘটনায় হল প্রশাসনের বিশেষ করে প্রভোস্টের পদত্যাগ দাবি করেছে অনেক শিক্ষার্থী। প্রক্টর বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়টি উপাচার্যের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।
