মেঘনা নদী থেকে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার

মেঘনা নদী থেকে সাংবাদিক বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ উদ্ধার
শেয়ার করুন

❐ নিজস্ব সংবাদদাতা

নিখোঁজ জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও কলামিস্ট বিভুরঞ্জন সরকারের মরদেহ মুন্সীগঞ্জের গজারিয়ায় মেঘনা নদী থেকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। খবর পেয়ে তার পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. মাসুদ আলম শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪৪ মিনিটে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

তিনি বলেন, মেঘনা নদীতে একটি মরদেহ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম ফারুক জানান, উদ্ধারকৃত মরদেহের চেহারায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। ফুটেজ দেখে পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে পরিবারের সদস্যরা মুন্সীগঞ্জে গিয়ে মরদেহ শনাক্ত করবেন।

বিভুরঞ্জনের ছোট ভাই চিররঞ্জন সরকার বলেন, “আমরা ঘটনাস্থলের পথে রয়েছি। পুলিশ যে ছবি দেখিয়েছে, সেটি দাদারই। এখন কিছু ফরমালিটিজ আছে, সেজন্য যাচ্ছি।”

গতকাল ২১শে আগস্ট সকালে বিভুরঞ্জন সরকার বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমে একটি লেখা ই-মেইল করেন। লেখার ফুটনোটে উল্লেখ করেন, “জীবনের শেষ লেখা হিসেবে এটি প্রকাশ করতে পারেন।”

পরিবার জানায়, ওইদিন সকাল ১০টার দিকে অফিসে যাওয়ার কথা বলে তিনি বাসা থেকে বের হলেও আর ফেরেননি। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার রাতে তার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।

বিভুরঞ্জন সরকার ছাত্রাবস্থাতেই সাংবাদিকতা শুরু করেন। পাশাপাশি তিনি বাম রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিলেন। পঞ্চগড়ে থাকাকালে তিনি দৈনিক আজাদের প্রতিনিধি হিসেবে কাজ করেন। পরে ঢাকায় এসে সাপ্তাহিক একতা, দৈনিক রূপালীতে সাংবাদিকতা করেন এবং সাপ্তাহিক ‘চলতিপত্র’ সম্পাদনা করেন।

তিনি ‘মৃদুভাষণ’ সাপ্তাহিকের নির্বাহী সম্পাদক এবং ‘দৈনিক মাতৃভূমি’র সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। দেশের প্রায় সব দৈনিক ও অনলাইন মাধ্যমে তার নিয়মিত কলাম প্রকাশিত হয়েছে।

আশির দশকে সাপ্তাহিক যায়যায়দিনে সহকারী সম্পাদক হিসেবে কাজ করার সময় তিনি ‘তারিখ ইব্রাহিম’ নামে ছদ্মনামে লেখালেখি করে পরিচিতি পান। সর্বশেষ তিনি দৈনিক আজকের পত্রিকায় জ্যেষ্ঠ সহকারী সম্পাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত হন।

Visited 15 times, 1 visit(s) today