ভারত সরকার পাকিস্তানের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক এবং বৈশ্বিক আসরের ক্রিকেটীয় সম্পর্কের মধ্যে একটি দৃঢ় পার্থক্য তৈরি করেছে। তারা স্পষ্ট করে দিয়েছে যে বয়কট ও সরে দাঁড়ানোর জন্য ক্রমবর্ধমান দাবি সত্ত্বেও, জাতীয় দল আসন্ন এশিয়া কাপে অংশগ্রহণ করবে। তবে পাকিস্তানের সঙ্গে কোনো দ্বিপাক্ষিক খেলাধুলা চলবে না। যা আসলে অনেক বছর ধরেই বন্ধ আছে। এর ফলে ভারত-পাকিস্তানের এশিয়া কাপের ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা কেটে গেল।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ভারতের ক্রীড়া ও যুব বিষয়ক মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, “পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পৃক্ত ক্রীড়া ইভেন্টগুলির প্রতি ভারতের দৃষ্টিভঙ্গি দেশটির সঙ্গে সামগ্রিক নীতির প্রতিফলন।”
“পরস্পরের দেশে দ্বিপাক্ষিক ক্রীড়া ইভেন্টগুলির ক্ষেত্রে ভারতীয় দলগুলি পাকিস্তানে প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে না। আমরা পাকিস্তানি দলগুলিকেও ভারতে খেলার অনুমতি দেব না। তবে আন্তর্জাতিক এবং বহুপাক্ষিক ইভেন্টগুলির ক্ষেত্রে তা ভারতে হোক বা বিদেশে, আমরা আন্তর্জাতিক ক্রীড়া সংস্থাগুলির চর্চা এবং আমাদের নিজেদের ক্রীড়াবিদদের স্বার্থ দ্বারা পরিচালিত হই।”
বিসিসিআই মঙ্গলবার ১৫ সদস্যের ভারতীয় দল ঘোষণা করার পর ‘পাকিস্তান ও এশিয়া কাপ বয়কটের’ দাবি আরও জোরালো হয়। এর আগে, গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত লিজেন্ডস টুর্নামেন্টে যখন ইন্ডিয়া চ্যাম্পিয়ন্স দল পাকিস্তান চ্যাম্পিয়ন্সের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচ এবং সেমিফাইনাল থেকে সরে দাঁড়িয়েছিল, তখন থেকেই এই বিতর্ক শুরু হয়েছিল। ইজিমাইট্রিপের মতো স্পনসররাও সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছিল।
দ্বিপাক্ষিক ও বহুপাক্ষিক ইভেন্টগুলির মধ্যে একটি স্পষ্ট সীমা টেনে, মন্ত্রণালয় আইসিসি এবং এসিসি সহ বৈশ্বিক টুর্নামেন্টে ভারতের দলগুলিকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পথ প্রশস্ত করেছে। এটি নিশ্চিত করে যে ভারত যখন এই ধরনের বহুপাক্ষিক ইভেন্টগুলির আয়োজন করবে, তখন পাকিস্তানি দলগুলিও তাতে অংশ নিতে পারবে। এমনকি অলিম্পিকের আয়োজক হওয়ার জন্য ভারতের বিডকে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে খেলোয়াড় এবং ম্যাচ কর্মকর্তাদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করারও পরিকল্পনা রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, “ভারতকে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া ইভেন্ট আয়োজনের জন্য একটি পছন্দের গন্তব্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে, ক্রীড়াবিদ, দলীয় কর্মকর্তা, প্রযুক্তিগত কর্মী এবং আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পদাধিকারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়া সহজ করা হবে।” “আন্তর্জাতিক ক্রীড়া পরিচালনা কমিটির পদাধিকারীদের ক্ষেত্রে, তাদের সরকারি মেয়াদের জন্য (সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত) অগ্রাধিকার ভিত্তিতে একাধিকবার প্রবেশের ভিসা প্রদান করা হবে।”
সরকারের এই অবস্থান এশিয়া কাপ এবং ৯ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বর সংযুক্ত আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া আট জাতির মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নশিপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতের ম্যাচের অনিশ্চয়তা দূর করল। আগামী ১৪ সেপ্টেম্বর দুবাইতে এশিয়া কাপের ম্যাচে লড়বে ভারত-পাকিস্তান।
