❐ স্থানীয় সংবাদদাতা
চট্টগ্রামের পটিয়ায় একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে পিটিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এর আগেও দুবার তাকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আজ ২১শে আগস্ট, বৃহস্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।
আহত শিক্ষকের নাম শ্যামল কান্তি দে। তিনি জেলার পটিয়া উপজেলার হাইদগাঁও উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
আহত শিক্ষক শ্যামল কান্তি বলেন, বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নিয়োগ নিয়ে এলাকার একটি পক্ষের রোষানলে পড়তে হয় আমাকে। এর আগেও কয়েকবার আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। এ বিষয়ে পটিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরিও করেছি। তাছাড়া ওই পক্ষটি আমার বিরুদ্ধে নানান ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিল। আজ তারা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আমার ওপর হামলা করে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শ্যামলের সহকর্মী প্রান্ত বড়ুয়া জানান, অটোরিকশা করে শিক্ষক শ্যামলসহ বিদ্যালয়ের মোট তিনজন শিক্ষক যাচ্ছিলেন। এসময় ওঁৎ পেতে থাকা ৬-৭ জন সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। তারা শিক্ষক শ্যামল বাবুকে মারতে মারতে মাটিয়ে শুইয়ে ফেলেন। এসময় বাকি দুই শিক্ষকের চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষক তানিয়া ইয়াছমিন বলেন, হামলাকারীরা গালাগাল করে মামলা কেন দেওয়া হচ্ছে, এটি জিজ্ঞাসা করছিলেন। আর মেরে ফেলার হুমকিও দিচ্ছিলেন।
এদিকে, এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ করেছে। এতে তারা ওই শিক্ষককে হামলার সঙ্গে জড়িত সবার বিচার দাবি করে।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমান বলেন, প্রধান শিক্ষকের ওপর হামলার বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। ইতিমধ্যে পুলিশ ও সেনাবাহিনীকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। হামলাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার ব্যবস্থা করা হবে। এর আগেও প্রধান শিক্ষক থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছিলেন। সেই জিডির পরিপ্রেক্ষিতেই নিয়মিত মামলা হবে।
পটিয়া থানার ওসি মো. নুরুজ্জামান বলেন, হাইদগাঁও স্কুলের প্রধান শিক্ষককে কে বা কারা মারধর করেছে। খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল সেখানে যায়। মারধরের বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
