রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের সংস্কার: ৩৬৫ টন পাথর গায়েব

রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের সংস্কার: ৩৬৫ টন পাথর গায়েব
শেয়ার করুন

স্থানীয় সংবাদদাতা

রংপুর-সৈয়দপুর মহাসড়কের সংস্কারকাজে বড় ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। সেনাবাহিনীর একটি দল টহলের সময় অন্তত ৩৬৫ টন পাথর গায়েবের প্রমাণ পায়। তবে এখন পর্যন্ত প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তথ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রংপুর মেডিকেল মোড় থেকে পাগলাপীর, শলেয়াশাহ বাজার থেকে বরাতি সেতু, তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তারাগঞ্জ সেতু এবং তকনাগঞ্জ বাজার থেকে চিকলি বাজার পর্যন্ত প্রায় ১৭ কি.মি. সড়ক সংস্কারে ২৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকার প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়। এই কাজ পায় রাজশাহীর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডন এন্টারপ্রাইজ। ইতোমধ্যে ১০ কি.মি. সড়কে ডিবিএসটি (ডেন্স বিটুমিনাস সারফেস) কাজ শেষ বলে জানায় সওজ।

গত বুধবার বিকেলে সেনাবাহিনীর ৬৬ ডিভিশনের ৩৪ বেঙ্গল রেজিমেন্টের একটি টহল দল সিটি মোড় এলাকায় কাজ পরিদর্শন করে। কাজের মান নিয়ে সন্দেহ দেখা দিলে তারা রাস্তার গঠন ও উপকরণ পরীক্ষা করেন এবং অনিয়মের প্রমাণ পান।

প্রকল্প অনুযায়ী, প্রতি বর্গমিটারে ২৩ কেজি পাথর ব্যবহারের কথা থাকলেও সেখানে ১৮ কেজি পাথর ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানা যায়। এতে প্রায় ৩৬৫ টন পাথর কম ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া, বিটুমিনের মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কাজের মান নিয়ে সেনা কর্মকর্তা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সতর্ক করেছেন।

সেনা সদস্যদের উপস্থিতিতে সরেজমিনে দেখা যায়, সড়কে দেওয়া পাথর ট্রেতে নিয়ে পরিমাপ করা হলে পাথরের পরিমাণ কম পাওয়া যায়। সংস্কার শেষ হওয়া সড়কের বেশ কিছু স্থানে ফাটল, গর্ত ও উঠে যাওয়া পাথরের দৃশ্য মিলেছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে কাজের মান নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।

বাপ্পি আশরাফ নামের এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, সরকারি কর্মকর্তার সামনেই সব করছে ঠিকাদার। কিছু বললে তারা রেগে যান। মনে হয়, তারা মোটা অঙ্কের টাকা খাইছে ঠিকাদারের কাছ থেকে।

আলমগীর হোসেন নামের এক বাসিন্দা বলেন, “পাথর দেয় আর উঠে যায়। অভিযোগ করলেও কেউ শুনে না। সেনাবাহিনী ধরার পর প্রমাণ মিলেছে।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রকল্প ব্যবস্থাপক শাহিনুর রহমান বলেন, “প্রকল্প অনুযায়ী ২৩ কেজি পাথর দেওয়ার কথা ছিল। সেনাবাহিনী ১৮ কেজি পেয়েছে। এটা ঠিক করে দেওয়া হবে।”

সওজ-এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান বলেন, “ডিজাইনে ২৩ কেজি পাথর ছিল, বাস্তবে ১৮ কেজি পাওয়া গেছে। যেহেতু কাজ দীর্ঘ এলাকায় হচ্ছে, কিছু কমবেশি হতে পারে। ত্রুটি থাকলে তা ঠিক করে দেওয়া হবে।”

তবে স্থানীয়রা বলছেন, প্রমাণ থাকার পরও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় ভবিষ্যতে এ ধরনের অনিয়ম আরও বাড়তে পারে।

Visited 4 times, 1 visit(s) today