গোপালগঞ্জ কিলিং মিশন: এনসিপির সাথে ইউনূস সরকার-প্রশাসনের ছিল প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, ভিডিও ফাঁস

গোপালগঞ্জ কিলিং মিশন: এনসিপির সাথে ইউনূস সরকার-প্রশাসনের ছিল প্রত্যক্ষ অংশগ্রহণ, ভিডিও ফাঁস
শেয়ার করুন

ভিডিওটিতে উঠে এসেছে কীভাবে প্রশাসনের পূর্ণ সহায়তায় এবং নিরাপত্তার মধ্যে এনসিপি নেতাকর্মীদরা গোপালগঞ্জে জঙ্গি তৎপরতা চালিয়েছে। তাদের কথোপকথনে উঠে এসেছে কী পরিকল্পনা নিয়ে তারা গোপালগঞ্জে এসেছিল এবং পরবর্তী পরিকল্পনা কী। পুরো ভিডিওজুড়ে ছিল আওয়ামী লীগ‚ বঙ্গবন্ধু ও গোপালগঞ্জবাসীকে দমনের পরিকল্পনা। গাড়িতে বসেই তারা ঢাকায় নির্দেশ দেয় যেন যাত্রাবাড়ী দনিয়া কলেজের সামনে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করা হয়।

পরেরবার গোপালগঞ্জ এলে বঙ্গবন্ধুর সমাধি উপড়ে ফেলা হবে বলে জানায়। এতে পরিষ্কার, দেশের সর্বোচ্চ পর্যায়ে প্রশাসনিক সহায়তা থেকে শুরু করে সেনাবাহিনী ও সেনা ইন্টেলিজেন্সের সাথে সমন্বয় করেই তারা এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে এবং একইভাবে ভবিষ্যতেরও সব প্রস্তুতি নেয়া হবে বলে জানিয়েছে।

ভিডিওটিতে যা উঠে এসেছে:

ভিডিওটি গোপালগঞ্জ থেকে পালানোর সময় এনসিপির গাড়িবহরের মাঝের একটি গাড়ি থেকে ধারণকৃত। মূল ধারাভাষ্যে ছিল এনসিপি মাদারীপুর জেলার তত্ত্বাবধায়ক রকিব হাসান‚ সে ছাড়াও গাড়িতে ছিল এনসিপির মাদারীপুরের প্রধান সমন্বয়ক শহীদুল ইসলাম সহ মোট ৬ জন।

শুরুর পর পরই গাড়িবহর একটি ব্যারিকেডের সামনে পড়ে এবং পাশ থেকে ৫-৬ জন গোপালগঞ্জবাসী ইট পাটকেল ছুড়তে দেখা যায়। একটা ইট গাড়িটিতে এসে লাগে এবং এক পাশের কাচ ভেঙে যায় (যদিও পরবর্তীতে তারা সেই ইটকে ককটেল বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করে)। সেই সময় গাড়ির মধ্যকার সবাই চেঁচামেচি করতে থাকে কেন তাদের হয়ে হামলাকারীদের উপর গুলি ছোড়া হচ্ছে না এবং সেনাবাহিনী গুলি না করলে যেন অস্ত্র তাদের হাতে তুলে দেয়া হয়।

৩ মিনিট ২০ সেকেন্ডের মাথায় সেনাবাহিনী কেন গুলি করছে না সেই প্রসঙ্গে রাকিবকে বলতে শোনা “এবার তাদের ফুল এক্সেস দেয়া হয়েছে গুলি করার কিন্তু একটা গুলিও তারা করে নাই”। অর্থাৎ জানা গেল সেনাবাহিনীকে মানুষ গুলি করে মা রার অর্ডার দেয়া ছিল।

৭ মি: রাকিবকে আরো বলতে শোনা যায় যে সামান্য এই হামলায় সে হতাশ এবং সে নাকি জীবন দেয়ার প্রস্তুতি নিয়েই এসেছিল। সে ব্যঙ্গ করে বলতে থাকে যে গোপালগঞ্জবাসী তাদের কিছুই করতে পারেনি। এই সময় শহিদুল ইসলামকে আর্মি ইন্টেলিজেন্সের কারো সাথে ফোনে ঘটনার আপডেট দিতে শোনা যায়।

পরবর্তীতে গাড়িবহর আবার এগুতে শুরু করলে প্রতিটা মোড়ে/বাজার-জনপদে সেনাবাহিনীর এপিসি থেকে নির্বিচারে গুলিবর্ষণের শব্দ শোনা যায়। সেই গুলিতে বাইরে কেউ হতাহত হলে গাড়িটির ভিতরের সবাইকে উল্লাস করতে শোনা যায়। তারা বলতে থাকে কীভাবে পরদিন থেকে গোপালগঞ্জবাসী সবার বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়ার ব্যাবস্থা করা হবে।

১৩ মি: ২০ সে: আবার গুলির শব্দ শোনা যায় এবং তাদের কথোপকথন শুনে মনে হয় কোন এক মোটরসাইকেল আরোহীকে গুলি করা হয়েছে এবং সে গুলি খেয়ে পড়ে যাওয়ায় তারা উল্লাস প্রকাশ করে বলতে থাকে “একেবারে নগদ গুলি”।

১৯ মি: ৩০ সে: গাড়ির সামনের সিটে বসা ব্যাক্তি ঢাকায় কোন বন্ধূকে কল করে এবং বলে “আমি ঢাকা শহরে গোপালগঞ্জের আওয়ামী লীগের কোন লেস্পেন্সার রাখবো না। যেখানেই পাই জবাই করবো। তুই রেডি রাখ। অস্ত্র AK-47 সহ ৮০টা রেডি রাখবি। চিরুনি অভিযান করবো ঢাকা শহর থেকে”।

১৬-২১ মি: তাদের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ আইজিপি পুলিশ প্রসাশন ও বিজিবির বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে শোনা যায় এবং কেন তাদের মাত্র ১টি এপিসি দেয়া হলো‚ কেন ১ ডজন দেয়া হলো না সে বিষয়ে তারা ঊষ্মা প্রকাশ। হেলিকপ্টার এনে কেন গুলি করা হলো না তা নিয়েও তারা ক্ষুব্ধ।

২৮ মি: শহীদুলকে বলতে শোনা যায় যে রাজনীতিতে যেহেতু তারা নেমেছে ফার্স্ট এইড কিট সাথে রাখতে হয় এবং পরবর্তীতে আর্মস ও বুলেটও থাকবে। গাড়ির ভাঙা কাচের আঘাতে ছড়ে যাওয়া হাত পায়ের প্রাথমিক চিকিৎসার প্রসংগে আলাপকালে একজন বলে নামার আগে “সবাই কিন্তু ব্যান্ডেজ করবেন। পলিটিক্স!”

৩১ মি: ১৯: রকিবকে ঢাকায় তানভীর নামে কারো সাথে ফোনে কথা বলতে শোনা যায়। তানভীর জানায় ঢাকায় ব্লকেড করা হয়েছে এবং শুনে সবাই খুশি হয়। এক পর্যায়ে রকিব নির্দেশ দেয় “পুরা ঢাকা শহর অচল করে দিবা। আওয়ামী লীগের যতগুলা আছে সব খুঁইজা মাইরা ফেল। সবাইরে নিয়া নাও। ছাত্রদল সহ সবার সাথে কথা হইসে আমার। শান্তদেরকে ফোন দাও। ওরাও সর্বোচ্চ কোঅপারেট করবে।”

কানিজ নুসাইবা রিনকি

Visited 8 times, 1 visit(s) today