আগাম ঘোষণা দিয়েই রামুতে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন

আগাম ঘোষণা দিয়েই রামুতে ছাত্রলীগের মোটরসাইকেল শোডাউন
শেয়ার করুন

❐ স্থানীয় সংবাদদাতা


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আগাম ঘোষণা দিয়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলায় মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিল করেছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এর আগের দিন উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে সংগঠনটির কর্মী সমাবেশও অনুষ্ঠিত হয়েছে। দুই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে জেলার রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনা ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

তবে রামুর শোডাউনটি রোববারের ঘটনা কি না, তা নিয়ে ভিন্নমত দিয়েছে পুলিশ।

রোববার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের রামু উপজেলার রশিদনগর ইউনিয়নের স্বপ্নতরী পার্কসংলগ্ন এলাকা থেকে মোটরসাইকেল শোডাউন শুরু হয়। পরে বহরটি মহাসড়ক হয়ে জোয়ারিয়ানালার দিকে যায়। এ সময় অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন স্লোগান দিতে দেখা যায়।

স্থানীয় সূত্র জানায়, শোডাউনের আগের দিন শনিবার বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন রামু উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক তারেক উদ্দিন মিশুক।

তারেক উদ্দিন মিশুক শোডাউনের বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, রোববার সকালে মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। তখন রামুতে বৃষ্টি ছিল না, সকাল সাড়ে ৯টার পর বৃষ্টি শুরু হয়।

তিনি দাবি করেন, উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে ছাত্রলীগের শতাধিক নেতাকর্মী মিছিলে অংশ নেন। এতে উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহীন সরওয়ার কাজল এবং সদস্য কাওসার সাকিবও নেতৃত্ব দেন। আয়োজকদের দাবি, কর্মসূচিটি শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। তার দাবি, প্রচারিত মোটরসাইকেল শোডাউন ও মিছিলটি রোববারের নয়।

ওসি বলেন, রোববার সকাল থেকেই রামুতে বৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু প্রচারিত ভিডিওতে আকাশ পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। তাই এটি আগের কোনো সময়ের শোডাউনের ভিডিও হতে পারে, যা আজকের বলে প্রচার করা হচ্ছে।

অন্যদিকে রামু উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম দাবি করেছেন, তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে মিছিলটি রোববার সকালের। তিনি জানান, এ ঘটনার প্রতিবাদে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি পালন করবেন।

এর আগে শনিবার দুপুরে উখিয়া উপজেলার পালংখালী ইউনিয়নে ছাত্রলীগের উদ্যোগে একটি কর্মী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। স্থানীয়দের দাবি, এতে শতাধিক নেতাকর্মী অংশ নেন।

সমাবেশের প্রতিবাদে শনিবার বিকেলে পালংখালী স্টেশন এলাকায় বিএনপি, যুবদল ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন। মিছিলে তারা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগবিরোধী বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং সমাবেশে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

রামুর মোটরসাইকেল শোডাউন এবং উখিয়ার কর্মী সমাবেশকে কেন্দ্র করে কক্সবাজারের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনাগুলো পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Visited 10 times, 7 visit(s) today