উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ: ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকার দিয়ে সম্ভব নয়

উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ: ব্যাংকিং খাতের সংস্কার অন্তর্বর্তী সরকার দিয়ে সম্ভব নয়
শেয়ার করুন

জেলা প্রতিনিধি

ব্যাংকিং খাতের সংস্কার নির্বাচিত সরকার ছাড়া সম্ভব নয় বলে সাফ জানিয়ে দিলেন অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ।

স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিলেন, ‘ব্যাংকিং খাতের সংস্কার একটা সময়সাপেক্ষ ব্যাপার, এটি আমরা (অন্তর্বর্তী সরকার) করতে পারব না। নির্বাচিত সরকার এসেই এটা করবে।’

শনিবার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সদরে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় নিজেদের অপারগতার দায়ভার আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর চাপিয়ে এই উপদেষ্টা বলেন, বিগত সরকারের আমলে দেশের অনেকেই প্রচুর টাকা বিদেশে পাচার করেছে। তারা ব্যাংকগুলো ধ্বংস করে গেছে।

এরকম ঘটনা পৃথিবীর কোনো সভ্য দেশে ঘটেনি বলে দাবি করেন এই অর্থনীতিবিদ।

এসময় সাংবাদিকরা আওয়ামী লীগ সরকারের সময় পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ নিয়ে সিপিডির শ্বেতপত্র, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর এবং অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টার নানারকম বিভ্রান্তিমূলক তথ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে এড়িয়ে যান সালেহউদ্দিন আহমেদ।

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, কিছুদিন আগে আর্থিকভাবে দুর্বল ১২টি ব্যাংককে ৫২ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে ২২ হাজার কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে। আমরা ব্যাংক খাতে শৃঙ্খলা ফিরে আনতে চেষ্টা করছি। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়।

সাংবাদিকরা জানতে চান, অর্থনীতির সংস্কার করতে টাকা ছাপানো লাগবেনা বলে গভর্নরের প্রতিশ্রুতি সত্ত্বেও কেন দফায় দফায় টাকা ছাপানো হয়েছে, এমন প্রশ্নের জবাবও এড়িয়ে যান তিনি।

বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, সঞ্চয়পত্রে সুদের হার বাড়িয়ে দিলে সবাই সঞ্চয়পত্র কিনবে, তখন কেউ আর ব্যাংকে টাকা রাখবে না। ব্যাংকগুলোর লিকুইডিটির একটা ব্যাপার আছে। আমাদের তো ব্যালেন্স করে দেখতে হয়। আর সবাই যদি সঞ্চয়পত্র কিনে, তাহলে ব্যাংকগুলো কোত্থেকে টাকা পাবে।

আগামী ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের আগে ব্যাংকিং খাতকে সংকটমুক্ত করা যাবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করে যাচ্ছে। ব্যাংকের ক্ষেত্রে একটা আইন হয়েছে, ব্যাংক রেজ্যুলেশন অ্যাক্ট। যার প্রথম শর্ত হলো, আমানতকারীদের টাকা ফেরত দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। কারো টাকা মার যাবে না, হয়তো সময় লাগতে পারে। কোনো ব্যাংকের হয়তো ব্যবসা নাই, সেক্ষেত্রে সময় লাগবে। এসব হিসাব করা হচ্ছে এবং আমরা কারিগরি সহায়তা নিচ্ছি কীভাবে মূল্যায়ন করতে হয়।

এ সময় উপদেষ্টার সঙ্গে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দিদারুল আলম, জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নবীনগর সার্কেল) পিয়াস বসাক, নবীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাজীব চৌধুরী, ওসি শাহীনূর ইসলামসহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Visited 12 times, 1 visit(s) today