সরকারের ব্যর্থতায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি: পোশাক শিল্পে প্রতিদিন ক্ষতি ২৫০০ কোটি টাকা

সরকারের ব্যর্থতায় বিপর্যস্ত অর্থনীতি: পোশাক শিল্পে প্রতিদিন ক্ষতি ২৫০০ কোটি টাকা
শেয়ার করুন

নিজস্ব প্রতিবেদক

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ঘিরে চলমান অচলাবস্থায় দেশের শিল্প ও রপ্তানি খাতে ভয়াবহ ক্ষতি হচ্ছে। এমন উদ্বেগ জানিয়ে শীর্ষ ব্যবসায়ীরা সরকারের উদাসীনতা ও অদক্ষতার কঠোর সমালোচনা করেছেন। তারা বলেছেন, সরকারি সিদ্ধান্তহীনতা ও সংকট ব্যবস্থাপনায় ঘাটতির কারণেই রাজস্ব বোর্ডে যে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে, তার ধাক্কা সরাসরি ব্যবসা-বাণিজ্যে লেগেছে। ব্যবসায়ীরা বিশাল ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

বিশেষ করে এই অচলাবস্থার কারণে তৈরি পোশাক শিল্পেই প্রতিদিন প্রায় ২৫০০ কোটি টাকার ক্ষতি হচ্ছে।

ব্যবসায়ী নেতারা অভিযোগ করেছেন, এনবিআর সংস্কারকে কেন্দ্র করে সরকার যে সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছে, তা গঠনমূলক আলোচনার বদলে একপাক্ষিক, অপরিকল্পিত ও বাস্তবতাবিবর্জিত। এর ফলে, শুধুমাত্র তৈরি পোশাক শিল্পেই প্রতিদিন ২,৫০০ কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হচ্ছে বলে দাবি করেছেন বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান।

রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে শীর্ষস্থানীয় ১২টি ব্যবসায়ী সংগঠন এই আশঙ্কা প্রকাশ করে গতকাল তাদের ক্ষোভের কথা জানান।

বক্তারা বলেন, সরকার যেখানে ব্যবসায়-বান্ধব পরিবেশের কথা বলে, সেখানে বাস্তবে একের পর এক অব্যবস্থাপনার কারণে ব্যবসায়ীদের অস্তিত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে সরকার।

সংবাদ সম্মেলনে বিসিসিআই সভাপতি আনোয়ার উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, এনবিআরের চেয়ারমানের অপসারণ কিংবা আন্দোলনকে উপেক্ষা করে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। বরং, আলোচনার টেবিলে বসে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির মাধ্যমে সবার অংশগ্রহণে একটি টেকসই সমাধানে পৌঁছাতে হবে। না হলে অর্থনীতির আরো ক্ষতি হবে।

তিনি বলেন, এনবিআরের সংস্কারের নামে যেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে, তা অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শ ছাড়াই হয়েছে এবং এতে সরকার নিজের অদক্ষতা ঢাকতে গিয়ে পুরো ব্যবসায়ী সমাজকে বলির পাঁঠা বানানো হচ্ছে।

বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ধরে এনবিআরের হাতে জিম্মি ছিল। এখন সরকার সেই জিম্মিদশার বৈধতা দিচ্ছে। ক্ষমতা ও অর্থের ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে সরকার ও এনবিআর যেভাবে টানাপড়েন চালাচ্ছে, তার খেসারত দিচ্ছে দেশের অর্থনীতি।

বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, বর্তমান সরকারের কাছে সংকটের গুরুত্ব তুলে ধরলেও তারা এখনো ঘুমিয়ে আছে। মঙ্গলবার কেন? আজই আলোচনায় বসে সংকটের সমাধান দরকার। কারণ আমরা এখন অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নেমেছি।

ব্যবসায়ী নেতারা আরো অভিযোগ করেন, সরকার ও এনবিআরের মধ্যকার দ্বন্ধে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা শুধু শিল্প নয়, সমগ্র জাতির অর্থনীতিকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজার বাংলাদেশের জন্য অপেক্ষা করবে না। ‘যুদ্ধ ছাড়া কোনো দেশের কাস্টমস এভাবে অচল হয় না’ বলেছেন এলএফএমইএবি সভাপতি সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর।

এফবিসিসিআইর সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি সরকারের সৃষ্ট সংকট। অথচ দায় চাপানো হচ্ছে ব্যবসায়ীদের ওপর। আমরা কোনো পক্ষের দালাল নই। আমরা দেশের অর্থনীতির প্রতিনিধিত্ব করি। কিন্তু আমাদেরকে টার্গেট করেছে সরকার।

ব্যবসায়ীরা আরো স্পষ্ট করে বলেন, যদি সরকার সত্যিকার অর্থে অর্থনীতিকে বাঁচাতে চায়, তাহলে আজই (কাল নয়) আন্দোলনকারী কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করে দ্রুত একটি বাস্তবসম্মত সমাধান দিতে হবে।

এদিকে সংবাদ সম্মেলন থেকে স্পষ্ট হয়েছে, ব্যবসায়ী সমাজ আজ শুধু ক্ষতিগ্রস্ত নয়, ক্ষুব্ধও। সরকারের দেরি করা সিদ্ধান্ত, সমন্বয়ের অভাব ও বাস্তবতাবিবর্জিত সংস্কার প্রক্রিয়া সবমিলিয়ে অর্থনীতির চাকা থমকে দাঁড়িয়েছে।

এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশের শীর্ষ উদ্যোক্তারা।

Visited 9 times, 1 visit(s) today