আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইউক্রেন, ২৯ জুন ২০২৫: রাশিয়া গত রাতে ইউক্রেনে শত শত ড্রোন, ক্রুজ ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই হামলায় দেশের পশ্চিম, দক্ষিণ ও মধ্যাঞ্চলে অসংখ্য ঘরবাড়ি, শিল্প স্থাপনা ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন।
ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া এই হামলায় প্রায় ৪৭৭টি ড্রোন ও ৬০টি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর মধ্যে ইউক্রেনীয় প্রতিরক্ষা বাহিনী ২১১টি ড্রোন ও ৩৮টি ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস করতে সক্ষম হয়েছে। এছাড়া, ২৫৫টি ড্রোন বা সিমুলেটরের পথ পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে, দেশের ছয়টি অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে।
ইউক্রেনের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া এই হামলায় ড্রোন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রসহ প্রায় ৫০০ ধরনের আকাশ অস্ত্র ব্যবহার করেছে। প্রতিরক্ষা বাহিনী এই বিশাল আক্রমণ মোকাবিলায় সব ধরনের উপলব্ধ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মোতায়েন করেছে।
দক্ষিণ ইউক্রেনের মাইকোলাইভ এবং মধ্য ডনিপ্রোপেট্রোভস্ক অঞ্চলে শিল্প স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পশ্চিমাঞ্চলের লভিভ অঞ্চলের গভর্নর জানিয়েছেন, রাশিয়া গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে, হামলার সময় ইউক্রেনীয় বাহিনী তাদের একটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান হারিয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রুশ আক্রমণ প্রতিহত করার চেষ্টায় এই ক্ষতি হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে “আকাশ সন্ত্রাস” হিসেবে অভিহিত করে রাশিয়ার সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেছেন, “রাশিয়া আমাদের সাধারণ মানুষকে ভীত করার উদ্দেশ্যে এই ধরনের হামলা চালাচ্ছে, কিন্তু আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এর মোকাবিলা করব।
আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, ইউরোপ ও কানাডা ইউক্রেনকে সামরিক সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। তিনি জানান, চলতি বছর ইউক্রেনকে প্রায় ৩৫০০ কোটি ডলারের সামরিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
রাশিয়ার এই হামলা ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, রাশিয়া নতুন ও উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের সামরিক শক্তি প্রদর্শনের চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আন্তর্জাতিক সমর্থন আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।
