বিশ্লেষণ || এসব উন্নয়ন কি শেখ হাসিনার বাপের টাকায় করা?

বিশ্লেষণ || এসব উন্নয়ন কি শেখ হাসিনার বাপের টাকায় করা?
শেয়ার করুন
. মামুনুর রশীদ

যেকোনো সরকারের তিনটা বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে: ১) কম খরচে সরকার চালানো, ২) সামাজিক উন্নয়ন এবং পরিকাঠামো নির্মাণ, এবং ৩) উন্নয়ন অবকাঠামো নির্মাণ।

আর এজন্য দরকার হয় বিশাল বাজেট। বিনিয়োগের টাকার উৎস মূলত তিনটি: ১) কর, ভ্যাট এবং অন্যান্য সেবা থেকে আয়, ২) ব্যাংক, পুঁজি বাজার, এবং অন্যান্য আর্থিক উপকরণ (যেমন, সঞ্চয়পত্র) বিক্রি থেকে ধার, এবং ৩) বৈদেশিক সাহায্য এবং ঋণ।

এই তিনটা উৎসের মধ্যে প্রথমটা (কর, ভ্যাট এবং অন্যান্য সেবা থেকে আয়) ইচ্ছা করলে চাপিয়ে দেয়া যায়। কিন্তু বাকিগুলো থেকে টাকা উত্তোলন করতে বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করতে হয় যে তারা টাকা ফেরত পাবে সময়মত। তার মানে সরকারের টাকা ধার করতে হলে তার জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক সুনাম বাড়াতে হয়। সেটার জন্য দরকার হয় সঠিক নেতৃত্ব এবং কঠোর পরিশ্রম।

উন্নত বিশ্বে অবকাঠামো উন্নয়নে জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ থাকে কারণ তারা প্রচুর পরিমাণ কর দেয় সরকারের খরচ চালানোর জন্য। আসুন বাংলাদেশের ক্ষেত্রে দেখি, আসলেই এসব উন্নয়ন কি শেখ হাসিনার বাপের টাকায় করা কি না?

) বাংলাদেশের ট্যাক্সজিডিপির অনুপাত পৃথিবীতে সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে একটা

২০২১ সালে বাংলাদেশের ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত ছিলো ৭.৪%, যা ২০২২ এ ৭.৫% এ উন্নীত হয়। এশিয়া-প্যাসিফিকের গড় হচ্ছে ১৯.৩% এবং ওইসিডি দেশগুলোর গড় হচ্ছে ৩৪%। চিত্র ১ এ কিছু দেশের ট্যাক্স-জিডিপির অনুপাত প্রকাশ করা হয়েছে। বলে রাখা ভালো, বাংলাদেশের ২০০৮ সালে এই অনুপাত ছিল ৬.২%।

 

অন্যান্য দেশের তুলনায় বাংলাদেশের এই অনুপাত দেখে মনে হচ্ছে কি আমাদের আশপাশের অবকাঠামোর যে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে তা আমাদের ট্যাক্সের টাকায় হয়েছে?
বরং এটাই কি সত্য নয় যে, সরকারের পরিচালন খরচ বাদ দিয়ে, ঢাকা শহরে ওয়াসার পানির জোগান এবং ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পোঁছে দেয়ার জন্য এর চাইতে বেশি টাকার দরকার?

২) তাহলে কি শেখ হাসিনা ঋণ নিয়ে এসব উন্নয়ন করেছেন?

চিত্র ২ এ কিছু দেশের ঋণ-জিডিপির অনুপাত দেখতে পাচ্ছেন। ২০১৪ সাল থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত সময়ে বাকী তিনটা দেশের তুলনায় বাংলাদেশের ঋণ-জিডিপি অনুপাত অনেক কম ছিলো। শুধুমাত্র ২০২৩ সালে বাংলাদেশের অনুপাত ৩৭.১% ভিয়েতনামের ৩৩.৫% এর চাইতে বেশি ছিলো।

Screenshot

তুলনা করলে দেখা যায় যে, আমেরিকাতে ১২২% হচ্ছে ঋণ-জিডিপি অনুপাত। তারমানে ১০০ ডলার জিডিপির বিপরীতে ১২২ ডলার আমেরিকা সরকার ঋণ করেছে। ইন্ডিয়াতে এটা ৮২%, চায়না ৮১%, সিঙ্গাপুর ১৭৩%, এবং জাপান ২৬৩%।

এর মানে হচ্ছে, শেখ হাসিনা এমন ঋণও করেননি যে আমাদেরকে ঋণের মধ্যে ডুবিয়ে গেছেন।

তাহলে এই বিপুল পরিমাণ সামাজিক এবং উন্নয়ন অবকাঠামো তৈরির সামর্থ্য আমরা অর্জন করেছি কিভাবে?

আমরা কি একবারও ভেবে দেখেছি কেন আইএমএফ শেখ হাসিনাকে ঋণ দিতে প্রশ্ন করেনি কিন্তু ইউনুসের বেলায় দেরি করেছে? এটা সম্ভব হয়েছে কারণ ১৬ বছরে শেখ হাসিনা একটা একটা প্রকল্প সম্পন্ন করে বাংলাদেশের সক্ষমতাকে একটা অন্য মাত্রায় নিয়ে গেছেন। বাংলাদেশকে বাহিরের বিনিয়োগকারীরা সমীহ করতেন।

বাংলাদেশ এই সম্মান অর্জন করেছে শেখ হাসিনার নেতৃত্বের গুণে, আমার আপনার ট্যাক্সের টাকায় নয়।

আর এখন যখন ইউনুস প্রায় ১০০০ এর মতো শেখ হাসিনার প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করেন তখন আমাদের সামনে আসে এক অর্থনৈতিক মিরাকল। আমাদের চোখের সামনে এত কিছু হয়ে গেছে, অথচ আমরা টেরই পেলাম না।

এই উন্নয়ন সম্ভব হয়েছে, কারণ শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে নিজের বাপের দেশই মনে করতেন এবং সেভাবেই দেশকে গড়ে তুলেছিলেন।

অন্যদিকে, এই উন্নয়ন যদি আমাদের ট্যাক্সের টাকায় হয়, তাহলে জুলাই-আগস্ট মাসে কেন আমরা আমাদের সম্পদ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছি?

আমরা দেশের অবকাঠামোতে আগুন দিয়েছি কারণ হয় আমরা উন্মাদ, আর না হয় আমরা ধরেই নিয়েছি এগুলো শেখ হাসিনার বাপের টাকায় করা। শেখ হাসিনা যেহেতু নাই, এই উন্নয়নকেও ধ্বংস করে দেয়া হোক। বাণিজ্য উপদেষ্টা এখন এগুলো বলছেন।

তার মানে, আমাদের কথাবার্তা এবং কর্মকাণ্ডই স্পষ্ট প্রমাণ করে যে শেখ হাসিনাই এই সকল উন্নয়নের “প্রতীক”। আরও প্রমাণ হয় যে, এই কর্মকাণ্ডে আমাদের কোন অবদান নেই। আমরা শুধু মিথ্যা বলে তার বদনাম করেছি।

এই উন্নয়ন আসলেই শেখ হাসিনার বাপের টাকায় করা।

 

 

লেখক পরিচিতঃ
. মামুনুর রশীদ
অর্থনীতিবিদ

 

Visited 67 times, 1 visit(s) today