নিজস্ব প্রতিবেদক
করোনাভাইরাস সংক্রমণ আবারও বাড়তে শুরু করেছে। দেশে দৈনিক আক্রান্তের হার বাড়ছে, এবং অনেকেই আক্রান্ত হচ্ছেন হালকা বা মাঝারি উপসর্গে। এই প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর নতুন করে উদ্যোগ নিচ্ছে। প্রাথমিক পর্যায়ে যেসব মেডিকেল কলেজ ও জেলা হাসপাতালগুলোতে আরটি-পিসিআর ল্যাব স্থাপন করেছিল শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকার, সেগুলোতে আবারও সীমিত পরিসরে করোনা পরীক্ষার কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে।
এই সময়টায় ব্যক্তিগত সচেতনতা ও সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও একবার গুরুত্ব পাচ্ছে। আর সুরক্ষার অন্যতম প্রধান উপায় হচ্ছে ফেস মাস্কের সঠিক ব্যবহার। কিন্তু আপনি কি জানেন—আমাদের অনেকেরই মাস্ক ব্যবহারে রয়েছে নানা ভুল অভ্যাস, যা বিপরীতে ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দেয়?
চলুন জেনে নিই, মাস্ক পরার সঠিক নিয়ম এবং প্রচলিত ভুলগুলো।
মাস্ক ব্যবহারের সঠিক নিয়ম: ধাপে ধাপে
১. সঠিক মাস্ক বাছাই করুন
সবচেয়ে ভালো হয় যদি সার্জিক্যাল মাস্ক ব্যবহার করা যায়। এ মাস্কগুলো সাধারণত একবার ব্যবহার উপযোগী এবং বহুস্তরবিশিষ্ট হয়, যা বাতাসে থাকা ভাইরাস বা জীবাণু আটকে রাখতে সক্ষম। মনে রাখবেন, বাজারে পাওয়া অনেক এক-লেয়ারের মাস্ক কার্যকর নয়। এগুলো ভাইরাস প্রতিরোধে অকার্যকর এবং ব্যবহার না করাই ভালো।
২. মাস্কের দিক ঠিক করে পরুন
সার্জিক্যাল মাস্কের দুটি অংশ থাকে:
- বাইরের দিকে থাকে হালকা নীল বা সবুজ রঙের স্তর
- ভেতরের দিকে থাকে সাদা রঙের স্তর
আপনি যদি সুস্থ থাকেন এবং বাইরে থেকে জীবাণু শরীরে প্রবেশ ঠেকাতে চান, তাহলে সাদা অংশটি মুখের দিকে থাকবে, নীল অংশটি থাকবে বাইরের দিকে। কারণ সাদা অংশটি হলো ফিল্টার, যা শ্বাসনালীতে পরিষ্কার বাতাস প্রবেশে সহায়ক।

তবে আপনি যদি জ্বর, সর্দি, কাশি বা সংক্রামক অসুস্থতায় ভোগেন, তাহলে সাদা অংশটি ভেতরে ও নীল অংশটি বাইরে রাখবেন, যাতে আপনার মুখের জীবাণু বাইরে ছড়িয়ে না পড়ে। অনেকেই মাস্ক পরার সময় এই দিকটি গুলিয়ে ফেলেন, ফলে মাস্ক ব্যবহারের কার্যকারিতা নষ্ট হয়ে যায়।
৩. নাক ও মুখ উভয়ই ঢেকে রাখুন
মাস্কের উদ্দেশ্য শুধু মুখ ঢাকা নয়—নাক এবং মুখ দুইটিই ভালোভাবে ঢাকা থাকতে হবে। মাস্কের ওপরের অংশে থাকা পাতলা মেটাল স্ট্রিপ বা তারটি নাকের ওপর চাপ দিয়ে সেট করুন, যাতে বাতাস পাশ দিয়ে ঢুকতে না পারে। নিচের অংশটি থুঁতনির নিচ পর্যন্ত নিয়ে গিয়ে মাস্কটি পুরোপুরি মুখমণ্ডল আবৃত করে রাখুন। অনেকেই নাক খোলা রেখে মাস্ক পরেন—এটা একটি মারাত্মক ভুল। এর ফলে শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে জীবাণু সহজেই শরীরে প্রবেশ করতে পারে।
৪. থুঁতনিতে মাস্ক নামিয়ে কথা বলা নয়
রাস্তাঘাটে বা দোকানে কথা বলার সময় অনেকে মাস্ক নিচে নামিয়ে থুঁতনিতে রেখে কথা বলেন। এতে মুখে লেগে থাকা জীবাণু বা বাইরের জীবাণু সহজেই ছড়িয়ে পড়ে এবং মাস্কের কার্যকারিতা পুরোপুরি হারিয়ে যায়। মাস্ক একবার মুখ থেকে নামিয়ে ফেললে, সেটি আর পরার জন্য নিরাপদ নয়।
৫. একই মাস্ক বারবার ব্যবহার করবেন না
সার্জিক্যাল মাস্ক সর্বোচ্চ একদিনই ব্যবহারযোগ্য। এটি পুনঃব্যবহার করা ঠিক নয়। একদিন পরে মাস্কটি নিরাপদভাবে ধ্বংস করে ফেলতে হবে। কাপড়ের মাস্ক হলে প্রতিদিন ধুয়ে রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে, তবে সেটিরও পর্যাপ্ত স্তর থাকতে হবে।
উপসংহার: সচেতনতাই সেরা প্রতিরক্ষা
করোনাভাইরাস হয়তো আমাদের জীবনের সঙ্গে সহাবস্থানে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে, কিন্তু ঝুঁকি এখনও পুরোপুরি পেরিয়ে যায়নি। বিশেষ করে সংক্রমণ যখন আবারও বাড়ছে, তখন মাস্ক ব্যবহারে উদাসীনতা হতে পারে বিপজ্জনক।
সঠিক মাস্ক, সঠিকভাবে পরা, নিয়মিত হাত ধোয়া এবং প্রয়োজন ছাড়া ভিড় এড়িয়ে চলাই এখন সবচেয়ে বড় সুরক্ষা। নিজের জন্য, পরিবারের জন্য, সমাজের জন্য—এই দায়িত্ব পালন করুন সচেতনভাবে।
