যশোরে সংখ্যালঘু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট, ৬ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ: ঐক্য পরিষদের ক্ষোভ

যশোরে সংখ্যালঘু বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ-লুটপাট, ৬ দিনেও গ্রেপ্তার হয়নি কেউ: ঐক্য পরিষদের ক্ষোভ
শেয়ার করুন

যশোর প্রতিনিধি | ২৭শে মে, ২০২৫

যশোর জেলার অভয়নগরে সংখ্যালঘু পরিবারের উপর সংঘটিত ভয়াবহ হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ৬ দিন পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো দুর্বৃত্তকে গ্রেপ্তার না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।

গত ২২শে মে বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টায় অভয়নগরের ডহর মশিয়াহাটি গ্রামের পিল্টু বিশ্বাসের বাড়িতে দেবাধী গ্রামের কৃষকদল নেতা তরিকুল ইসলামকে দুর্বৃত্তরা হত্যা করে। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগে তরিকুল ইসলাম মাছের ঘেরের ইজারা নিয়ে কয়েকজনের সঙ্গে আলাপ করছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের পরপরই সন্ধ্যা সাড়ে ৬টা থেকে আশপাশের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকাগুলোতে একযোগে হামলা চালায় একদল দুর্বৃত্ত। তারা ২০টি সংখ্যালঘু পরিবারের বসতঘরে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ করে। সেই সঙ্গে পরিবারের সদস্যদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালায়।

এ সময় মহিতোষ বিশ্বাসের বাড়িতে মতুয়া সম্প্রদায়ের বাৎসরিক পূজার অনুষ্ঠান চলছিল, যেখানে ঢাক-ঢোল, মাইক বাজিয়ে শত শত লোক উপস্থিত ছিলেন এবং প্রায় ৭০০ লোকের জন্য খাওয়ার আয়োজন করা হয়েছিল।

ভুক্তভোগী পরিবারগুলো জানায়, দুর্বৃত্তরা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নিয়ে যাওয়ার পর ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেয়। অনেক মহিলাকে নির্যাতন করা হয় এবং অধিকাংশ পরিবারের পুরুষ সদস্য নিরাপত্তার অভাবে এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেছেন।

ক্ষতিগ্রস্তরা আরও জানান, তাদের বসতভিটা, জমির দলিল, জাতীয় পরিচয়পত্র, শিক্ষা সনদসহ গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে গেছে।

২৭শে মে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য মিলন কান্তি দত্ত, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মনীন্দ্র কুমার নাথ, যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি শিমুল সাহা, সাংগঠনিক সম্পাদক সুদীপ্ত শর্মা এবং যশোর জেলা ও অভয়নগর উপজেলা কমিটির নেতারা ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে কথা বলেন এবং ঘটনাস্থলের ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করেন।

পরিদর্শন শেষে ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে যশোর জেলা পুলিশ সুপারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নেতৃবৃন্দ দ্রুত অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুড়ে যাওয়া গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুনঃউদ্ধারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।

এ ঘটনায় তরিকুল ইসলাম হত্যার মামলায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হলেও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় কল্পনা বিশ্বাসের দায়েরকৃত মামলায় এখনও কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

Visited 38 times, 1 visit(s) today