দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা শেষেও সাংবাদিক ৩ জন, ফারুকীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত

দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা শেষেও সাংবাদিক ৩ জন, ফারুকীর সংবাদ সম্মেলন স্থগিত
শেয়ার করুন
নিজস্ব প্রতিবেদক

বাংলা একাডেমির সংস্কার নিয়ে কথা বলার জন্য সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর আহ্বানে ডাকা সংবাদ সম্মেলন শেষ পর্যন্ত সাংবাদিকদের অনুপস্থিতির কারণে স্থগিত করা হয়েছে।

শনিবার দুপুর ২টায় শহীদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মাত্র তিনজন সাংবাদিক উপস্থিত হন। এরপরও আয়োজকরা প্রায় দেড় ঘণ্টা অপেক্ষা করেন। শেষ পর্যন্ত আর কেউ না আসায় অনুষ্ঠান স্থগিতের ঘোষণা দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক অধ্যাপক মোহাম্মদ আজম।

তিনি বলেন, “সাংবাদিক উপস্থিতি আশানুরূপ না হওয়ায় আজকেও দ্বিতীয়বারের মত সংবাদ সম্মেলনটি স্থগিত করতে হচ্ছে। পরে নতুন তারিখ ঠিক হলে, তা সাংবাদিকদের জানিয়ে দেয়া হবে।”

এর আগে, একই সংবাদ সম্মেলন বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও ‘অনিবার্য’ কারণ দেখিয়ে তা স্থগিত করে বাংলা একাডেমির জনসংযোগ বিভাগ। পরে সেটি শনিবার পুনর্নির্ধারিত হয়।

শনিবার দুপুরে অনুষ্ঠান শুরুর সময় উপদেষ্টার দপ্তরে বারবার তথ্য যাচাই করে জানানো হচ্ছিল সাংবাদিকদের উপস্থিতি কতটুকু। দুপুর আড়াইটায় বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক উপস্থিত সাংবাদিকদের জানান, সংবাদ সম্মেলন বিকেল ৩টায় শুরু হবে।

তবে নির্ধারিত সেই সময়েও সাংবাদিকের সংখ্যা বাড়েনি। ফলে ৩টা ৩০ মিনিটে এসে সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের ঘোষণা দেওয়া হয়। এই সময় সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোহা. খালিদ হোসেনও উপস্থিত ছিলেন।

সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব খালিদ হোসেন জানান, সংবাদ সম্মেলনের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে। তবে বেশ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের সংস্কৃতি বিটের সাংবাদিকরা জানান, তারা এই সংবাদ সম্মেলনের কোনো আমন্ত্রণ বা আনুষ্ঠানিক তথ্য পাননি।

এর আগে, গত ২৮শে এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও সাংবাদিকদের মধ্যে বাদানুবাদ হয়। ওই ঘটনার পর দীপ্ত টিভির নিয়মিত বুলেটিন কয়েক ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

পরদিন দীপ্ত টিভির সিনিয়র ব্রডকাস্ট জার্নালিস্ট মিজানুর রহমান, এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি ফজলে রাব্বী ও চ্যানেল আই অনলাইনের জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক রফিকুল বাসারকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে পরে সচিবালয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেন, “দীপ্ত টিভির সংবাদ কার্যক্রম বন্ধ করতে বলেনি সরকার। ‘গণহত্যার পক্ষে’ প্রশ্ন করায় টেলিভিশন ‘কর্তৃপক্ষ নিজেই’ এ সিদ্ধান্ত নেয়।”

ঘটনার পরদিন রাতে নিজের ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন মোস্তফা সরয়ার ফারুকী। তিনি লেখেন:

“…আজ সন্ধ্যায় জানলাম চ্যানেলগুলা তাদের চাকরিচ্যুত করেছে। প্রত্যেক চ্যানেলেরই নিজস্ব এডিটোরিয়াল পলিসি থাকে। তারা সেই পলিসির আলোকে কী সিদ্ধান্ত নেবে, সেটা তাদের ব্যাপার। তারপরও অনলাইনে কাউকে কাউকে একটা কথা বলার চেষ্টা করতে দেখছি যে আমাকে প্রশ্ন করায় চাকরি গেছে তাদের। হাস্যকর কথা।”

Visited 159 times, 1 visit(s) today