নিজস্ব প্রতিবেদক
সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন দিতে সরকারকে চাপ দেওয়ায় ‘রাজনীতি করতে চাইলে উর্দি খুলে মাঠে’ নামতে বলছেন এনসিপি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব জয়নাল আবেদিন শিশির।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি লিখেছেন, “আপনার কাজ দেশের সার্বভৌমত্ব পাহারা দেওয়া, রাজনীতি করা বা রাজনৈতিক বক্তব্য দেওয়া নয়। আর যদি রাজনীতি করতেই চান তাহলে উর্দি খুলে আসুন। রাজনীতির মাঠে আপনাকে স্বাগতম।”
তিনি আরও লিখেছেন, “৬২৬ জন খুনিকে পালিয়ে যেতে দেওয়ার ব্যাপারে আপনার সুস্পষ্ট বক্তব্যের অপেক্ষায় দেশবাসী।”
এ ঘটনার পরই সেনানিবাসে আশ্রয় নেওয়া রাজনৈতিক, প্রশাসনিক ও বিচারিক অঙ্গনের নাগরিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার ৬২৬ জন ব্যক্তির নাম প্রকাশ করেছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বিশৃঙ্খল পরিস্থিতিতে প্রাণ রক্ষার্থেই এসব নাগরিক সাময়িকভাবে সেনানিবাসে আশ্রয় নিয়েছিলেন।

জয়নাল আবেদিন শিশির
একই বিষয়ে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সুলতান মোহাম্মদ জাকারিয়া নিজের ফেসবুক পোস্টে নাম উল্লেখ না করলেও সেনাপ্রধানের প্রতি ইঙ্গিত করে লেখেন, “আমাদের কোনো সাংবিধানিক কাঠামো না থাকায় উত্তরসূরি নির্ধারণের কোনো পরিকল্পনা নেই। এখন চুপ্পু এবং ‘ডব্লিউ’ আমাদের ভাগ্য নির্ধারণ করবেন।”
তার এই পোস্টে কমেন্টকারীদের বেশিরভাগই সেনাপ্রধানকে উদ্দেশ্য করে লেখা হয়েছে বলেই মত প্রকাশ করেছেন।
সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, “জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে সারাদেশে আইনশৃঙ্খলার অবনতির কারণে বহু নাগরিক জীবনহানির আশঙ্কায় ঢাকাসহ বিভিন্ন সেনানিবাসে আশ্রয় প্রার্থনা করেন। সেই সময় মানবিক বিবেচনায় আশ্রয়প্রার্থীদের জীবনের নিরাপত্তাকেই অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছিল।”
আইএসপিআর জানায়, তালিকাভুক্ত ৬২৬ জনের মধ্যে ২৪ জন রাজনৈতিক ব্যক্তি, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন প্রশাসনিক কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য এবং অন্যান্য বিভিন্ন পেশার মানুষ রয়েছেন। এর মধ্যে পাঁচজনকে আইনি প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে সেনাবাহিনী অভিযোগ করে, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বুধবার সেনাসদরে এক অফিসার্স অ্যাড্রেসে বলেন, “২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে একটি নির্বাচিত সরকার দেখতে চাই।” তার এই মন্তব্য নিয়েও রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে—এটি সেনাবাহিনীর পেশাগত সীমারেখা লঙ্ঘন কি না।
এই প্রেক্ষাপটেই এনসিপি নেতাদের সরাসরি সমালোচনা সামনে আসে, যেখানে তারা সেনাবাহিনীকে “রাজনীতির বাইরে থাকার” আহ্বান জানিয়ে উর্দি খুলে রাজনীতির মাঠে আসার কথা বলেন।
